বাংলাদেশ জাটিয়া পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালীব রহমান পার্থো গতকাল ঢাকা থেকে বারিশাল গিয়ে লাহারহাট থেকে গতি নৌকায় ভোলা পৌঁছান। আট বছর পর নিজের জন্মভূমিতে ফিরে এসে তিনি একটি জনসাধারণিক আউটরিচ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন।
পার্থো গতি নৌকায় মেঘনা নদীর তীরে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল ভিড় জমে। সমুদ্রের ধারে, রাস্তার পাশে এবং ছাদে বসে থাকা মানুষজন তাঁর উপস্থিতি দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল। পার্থো হাত নেড়ে সমর্থকদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বিএনপি‑বিজেপি ঐক্য ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই”। এটি ভোলা থেকে প্রায় আট বছর পর তাঁর প্রথম জনসমক্ষে ভাষণ।
ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষজন নদীর তীর, রাস্তা এবং ছাদে একত্রিত হয়ে পার্থোর স্বাগত জানায়। তিনি উপস্থিতদের সমর্থনে তালি ও হাততালি পেতে পারেন। সমাবেশে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি যদি সংসদ সদস্য হন তবু গুলাম নবি আলমগীরকে এই নির্বাচনী এলাকার রক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন এবং স্থানীয় মানুষকে পারস্পরিক বিরোধ ত্যাগ করে ঐক্য বজায় রাখতে আহ্বান জানান।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে পার্থো আশ্বাস দেন, যদি তিনি নির্বাচিত হন তবে মানুষ শান্তিপূর্ণ ঘুমাতে পারবে এবং অন্যায়ের কোনো জায়গা থাকবে না। তিনি নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য উল্লেখ করে বলেন, তার পিতা কখনো কোনোকে ক্ষতি করেননি। “ঢাকায় কেউ আমাকে পছন্দ করতে পারে, তবে ভোলার মানুষ আমাকে ভালোবাসে” বলে তিনি স্থানীয় সমর্থনকে গুরুত্ব দেন।
প্রচারণা চলাকালীন তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা না দিতে, হিংসা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটাতে তিনি সকল সমর্থককে অনুরোধ করেন। “ভোলা আমার বাড়ি, আমার প্রতীক হল গাধা গাড়ি” বলে তিনি নিজের পরিচয়কে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করেন।
পার্থো আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো প্রার্থী বেশি যোগ্য হয় তবে ভোটাররা তাকে সমর্থন করা উচিত, তবে তিনি একা ভোলার দাবিগুলি, বিশেষত সেতু নির্মাণের বিষয়টি, সংসদে তুলে ধরতে সক্ষম বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। অতিরিক্তভাবে তিনি তার পূর্ববর্তী মেয়াদে সলমান এফ. রহমানকে “দারবেশ” বলে সম্বোধন করার কথা স্মরণ করেন, যা তার রাজনৈতিক রেকর্ডের একটি দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
প্রোগ্রামের সময় ভোলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ি জ্যাম হয়ে যায়; মানুষজন পার্থোকে দেখার জন্য তাড়া করে। তিনি চৌমুহানি ও কালিনাথ বাজারের মধ্য দিয়ে গিয়ে সমাবেশের স্থান পর্যন্ত পৌঁছান।
বিএনপি পক্ষ থেকে কিছু নেতার মন্তব্যে দেখা যায়, তারা পার্থোর সঙ্গে ঐক্য গড়ে তোলার গুরুত্ব স্বীকার করে, তবে কিছু বিশ্লেষক ও বিরোধী দল বলছে, শুধুমাত্র পার্থোর আহ্বানেই ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত হবে না; বাস্তবিক উন্নয়ন ও পরিষেবার অবস্থা ভোটের মূল নির্ধারক হবে। এছাড়া, কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, ভোলার ভোটাররা দীর্ঘ সময়ের পর ফিরে আসা নেতার প্রতি উষ্ণতা দেখালেও, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে ঐক্য ভঙ্গের ঝুঁকি রয়ে যাবে।
পার্থোর এই সফর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি যদি সংসদে নির্বাচিত হন, তবে ভোলা জেলার অবকাঠামো, বিশেষত সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভোটারদের বাস্তব চাহিদা কীভাবে পূরণ হবে, তা পরবর্তী নির্বাচনী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।
এই সফর শেষে পার্থো আবার ঢাকা ফিরে যান, তবে ভোলার মানুষজনের উল্লাস এবং সমাবেশের দৃশ্য তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে রয়ে যাবে।



