মেলবোর্ন পার্কে শনিবার অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের রাউন্ড-১৬ ম্যাচে ৩৮ বছর বয়সী নোভাক ডজিচেভ ৪০০তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচ জয় অর্জন করে ইতিহাস রচনা করেন। ডাচ খেলোয়াড় বোটিক ভ্যান দে জ্যান্ডশুল্পকে ৬-৩, ৬-৪, ৭-৬ (৭‑৪) স্কোরে পরাজিত করে তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
কোর্টের কেন্দ্রে গুঞ্জনময় ভিড়ের সামনে ডজিচেভের এই জয় তার মোট গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সংখ্যা ৪০০-এ পৌঁছায়, যা পূর্বে রজার ফেডারার (৩৬৯) ও সারেনা উইলিয়ামস (৩৬৫) ধারন করছিল। এ রেকর্ডের মাধ্যমে তিনি মেজর টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের শিরোপা নিজের নামে যুক্ত করেন।
ডজিচেভের এই জয় মেলবোর্ন পার্কে তার ১০২তম জয়ও বটে, যা তাকে ফেডারারের সমান করে দেয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের একক শিরোপা জয়ের সর্বোচ্চ সংখ্যা নিয়ে। মেলবোর্ন পার্কে তিনি মোট দশটি শিরোপা জিতেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায়।
পরবর্তী রাউন্ডে ডজিচেভের মুখোমুখি হবে চেকের তরুণ উত্থান জাকুব মেন্সিক অথবা আমেরিকান ডেবিউয়ান ইথান কুইন, যাদের ম্যাচ তীব্র তাপের কারণে বিলম্বিত হয়েছে। উভয় প্রতিপক্ষই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ডে উত্তেজনাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তবে ডজিচেভের অভিজ্ঞতা ও শারীরিক প্রস্তুতি তাকে সুবিধা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন ডজিচেভ, এবং তিনি বর্তমানে জ্যানিক সিন্নার ও কার্লোস আলকারাজের আধিপত্য ভাঙার চেষ্টা করছেন। তার সাম্প্রতিক ফর্ম শক্তিশালী, যা তাকে এই দুই তরুণ প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করার আত্মবিশ্বাস দেয়।
ডজিচেভের মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “আমি এখনও এই তরুণদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই এবং তাদেরকে চ্যালেঞ্জের মুখে রাখি।” তিনি স্বীকার করেছেন, আলকারাজ ও সিন্নার বর্তমান পারফরম্যান্স বিশ্বে শীর্ষে, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে কোর্টে পা রাখলেই প্রত্যেকের জয়ের সুযোগ থাকে, বিশেষ করে এই কোর্টে যেখানে তার ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে।
তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “আমি অতীতের সাফল্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভুগতে চাই না।” গত বছর তিনি গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে কোয়ার্টারফাইনাল ও সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, তবে তিনটি টুর্নামেন্টে আঘাতের কারণে অগ্রসর হতে পারেননি। এই অভিজ্ঞতা তাকে বর্তমান সিজনে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
বোটিক ভ্যান দে জ্যান্ডশুল্পের সঙ্গে পূর্বের সাক্ষাৎও স্মরণীয়। গত বছর ইন্ডিয়ান ওয়েলসের তৃতীয় রাউন্ডে তিনি ডজিচেভকে তিন সেটে পরাজিত করেছিল, তবে এইবার ডজিচেভের পারফরম্যান্সে কোনো শঙ্কা দেখা যায়নি।
ম্যাচের প্রথম সেটে ডজিচেভের টেনিসের গুণগত মান চমকপ্রদ ছিল। চতুর্থ গেমে তিনি ২৬ পয়েন্টের দীর্ঘ র্যালির পর গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক অর্জন করেন, যা সেটের প্রবাহকে তার দিকে ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয় সেটের শুরুর সার্ভে থেকেই তিনি আবার ডাচ খেলোয়াড়কে ব্রেক করেন, ফলে স্কোর দ্রুত তার পক্ষে চলে যায়।
তৃতীয় সেটে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চললেও ডজিচেভের অভিজ্ঞতা ও শটের নির্ভুলতা তাকে টায়ব্রেকের দিকে নিয়ে যায়। টায়ব্রেকের পরে তিনি ৭‑৪ স্কোরে টায়ব্রেক জিতে ম্যাচটি শেষ করেন। কোর্টের উল্লাসময় পরিবেশে ডজিচেভের এই জয় তার দীর্ঘায়ু ও ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে।
ডজিচেভের রেকর্ডভঙ্গী জয় এবং তার ৪০০তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক চিহ্নিত করে। তিনি এখন রাউন্ড-১৬-এ অগ্রসর হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন, তবে তার অভিজ্ঞতা ও শারীরিক প্রস্তুতি তাকে প্রতিপক্ষের তুলনায় সুবিধা দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
এই রেকর্ডের মাধ্যমে ডজিচেভের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, এবং তিনি ভবিষ্যতে আরও একাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই পর্যায়ে তার পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের বাকি অংশে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো দেখা বাকি।



