গাইবান্ধা জেলা শহরের সার্কুলার রোডে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল প্রায় নয়টায় একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটায়, যার ফলে একটি প্রিন্টিং প্রেসসহ চারটি পার্শ্ববর্তী দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডটি তাজ সিনেমা হলের সংলগ্ন এলাকায়, বাঁধন প্রিন্টিং প্রেসে হঠাৎ করে শিখা দেখায়। উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষী জানান, শিখা দ্রুতই বাড়ি-দোকানের ছাদ ও জানালার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে যে দোকানটি প্রভাবিত হয়, তা ছিল বাঁধন প্রিন্টিং প্রেস। শিখা নিয়ন্ত্রণে না থাকায় তা পাশের আদিত্য স্টোর, নিয়ত ভ্যারাইটিস, ছোটনের দোকান এবং রতনের সেলুনে ছড়িয়ে পড়ে। শিখার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ফায়ার ট্রাক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ারফাইটাররা শিখা দমন করতে তৎপরতা দেখিয়ে, প্রায় চল্লিশ মিনিটের মধ্যে আগুনের বিস্তার রোধে কাজ শেষ করে।
তবে ফায়ারফাইটারদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ভিতরের সব মালামাল, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোর মধ্যে প্রিন্টিং প্রেস, একটি সাধারণ স্টোর, একটি ভ্যারাইটিস শপ, একটি ছোটখাটো গৃহস্থালী সামগ্রী বিক্রেতা এবং একটি সেলুন অন্তর্ভুক্ত।
গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার নুরুল ইসলাম জানান, আগুনের সূত্রপাতের প্রাথমিক ধারণা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ফায়ারফাইটাররা শিখার তীব্রতা কমাতে দ্রুত কাজ করে, তবে শিখা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সম্পূর্ণ ধ্বংস অস্বীকার করা যায় না।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই গাইবান্ধা পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আগুনের সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ, যন্ত্রপাতির অবস্থা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা মানদণ্ডের পর্যালোচনা করা হবে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দলও একই সঙ্গে শিখার উৎস ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘন সম্পর্কে বিশ্লেষণ চালাবে।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল যদি বৈদ্যুতিক ত্রুটি নিশ্চিত করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও দায়িত্বশীল কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গাইবান্ধা জেলা আদালতে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের জন্য প্রযোজ্য দণ্ডবিধি অনুযায়ী, নিরাপত্তা মান না মানলে অপরাধমূলক দায়িত্ব আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়িক সমিতি ঘটনায় শোক প্রকাশ করে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা মালিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তারা দাবি করেছে, ভবিষ্যতে এমন অগ্নিকাণ্ড রোধে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
গাইবান্ধা শহরের বাসিন্দারা অগ্নিকাণ্ডের পরবর্তী দিনগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কর্মীদের সহায়তা করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় দাতাদের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। এই ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতিতে ক্ষতি করে, বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও সেবা খাতের উপর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্ত চলমান, এবং ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণের পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুনরায় নিরাপত্তা মানদণ্ড শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করবে।



