বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রধান মামুনুল হক আজ দুপুরে পিরোজপুর-২ নির্বাচনী র্যালিতে উল্লেখযোগ্য বক্তব্য রাখেন। তিনি জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনী সমাবেশে, নেসারাবাদ উপজেলা সরকারী স্বরূপকাঠি মডেল সেকেন্ডারি স্কুলের মাঠে, প্রায় দুপুরের সময়, জুলাই মাসে সংঘটিত বিদ্রোহকে নষ্ট করার একটি ষড়যন্ত্র ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন।
মামুনুল হক জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০টি দলের জোটের অংশ, যার নেতৃত্ব জামায়াত-এ-ইসলামি। তিনি র্যালিতে উপস্থিত সমর্থকদের জানিয়ে দেন, বিদ্রোহের সময় প্রায় ১,৫০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং এখনো সেই রক্তের মূল্যকে নষ্ট করার জন্য কিছু গোষ্ঠী একত্রিত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সব পরাজিত শক্তি এখন একসাথে হয়ে বিদ্রোহের অর্জনকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এই গোষ্ঠীগুলোকে তিনি ‘পরাজিত শক্তি’ বলে অভিহিত করে, তাদের উদ্দেশ্যকে দেশের স্বাধিনতা ও জনগণের ত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা হিসেবে তুলে ধরেন।
মামুনুল হক এমন কিছু ব্যক্তির কথাও সমালোচনা করেন, যারা জনসমক্ষে রেফারেন্ডামের পক্ষে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়ে, গোপনে ‘না’ ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের দ্বিমুখী আচরণ জাতীয় রাজনীতিতে কোনো স্থান পায় না এবং দেশের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করে।
র্যালিতে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করেন, আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা হস্তক্ষেপের অনুমতি নেই। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে আহ্বান জানান।
মামুনুল হক ভবিষ্যতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে, ভোটারদের জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীকে সমর্থন করার পরামর্শ দেন। তিনি জোটের প্রার্থীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে, দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ইসলামী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত বলে জোর দেন।
র্যালিতে জামায়াত-এ-ইসলামি পিরোজপুর-২ আসনের প্রার্থী শামিম সায়েদি এবং তার ছোট ভাই মাসুদ সায়েদি, পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী, উপস্থিত ছিলেন। শামিম ও মাসুদ উভয়ই প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সায়েদির পুত্র, যিনি যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে শাস্তি পালনকালে মৃত্যুবরণ করেন।
মামুনুল হকের এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনী পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করতে পারে। তিনি যে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ বাড়াতে পারে এবং নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। ভবিষ্যতে এই রকম উক্তি ভোটারদের মনোভাব ও ভোটের প্রবণতায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে পিরোজপুর অঞ্চলে যেখানে জোটের সমর্থন ভিত্তি শক্তিশালী।
এই র্যালি এবং মামুনুল হকের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর কৌশলগত পরিকল্পনা ও জনমত গঠন প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এই ধরনের প্রকাশনা রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করবে, এবং প্রশাসনের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।



