বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান গুলশানের জাস্টিস শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে অনুষ্ঠিত রিল প্রোডাকশন প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হয়ে আইন শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির মোকাবেলাকে তার শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে “বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি” থিমে তৈরি রিলের বিজয়ীরা অংশগ্রহণ করেন এবং তারেকের কন্যা জাইমা উপস্থিত থেকে শ্রোতাদের সম্বোধন করেন।
তারেক বলেন, “প্রথমে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আইন শৃঙ্খলা বজায় আছে; সবাইকে রাস্তায় নিরাপদে চলার সুযোগ থাকতে হবে।” তিনি নিরাপদ পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি।
এরপর তিনি দুর্নীতির ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন, “দুর্নীতি—যে কোনো রূপে হোক, তা মোকাবেলা করা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি জোর দেন, দুর্নীতির বিভিন্ন স্তর ও ধরণকে লক্ষ্য করে বহু দিক থেকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তারেকের মতে, আইন শৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দুটোই সঠিকভাবে সমাধান হলে দেশের বহু সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সহজ হবে। তিনি এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “এই দুইটি বিষয় ঠিকভাবে সমাধান করলে অন্য অনেক সমস্যার সমাধানও বড় অংশে সম্ভব হবে।”
প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা প্রশ্নোত্তর সেশনে বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করেন এবং তারেক সব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন। প্রশ্নগুলোর মধ্যে পরিবার কার্ড স্কিমের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়, বিশেষ করে বিধবা নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে।
তারেক স্পষ্ট করে বলেন, একক মা, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্নতা বা স্বামী ত্যাগ করা নারীদের এই স্কিমের আওতায় আনা হবে। তিনি যোগ করেন, “একক মা, বিধবা, স্বামী ত্যাগ করা নারী—সবাইকে এই সুবিধা প্রদান করা হবে।”
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা নেটের অধীনে বর্তমানে ১৩৮টি প্রকল্প চলমান, তবে তারেকের মতে সেগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না। তিনি উল্লেখ করেন, “সম্পদ নষ্ট হচ্ছে; কেউ তিনটি সাপোর্ট পাচ্ছে, আর কেউ কিছুই পাচ্ছে না।”
এই অদক্ষতা দূর করতে তিনি পরিবার কার্ডের মাধ্যমে সিস্টেমকে পুনর্গঠন করার প্রস্তাব দেন, যাতে সবার জন্য সমানভাবে সেবা পৌঁছায়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “একজন কৃষকের স্ত্রী, একটি ভ্যান চালকের স্ত্রী, অফিস এক্সিকিউটিভের স্ত্রী—সবাইকে এই সুবিধা দেওয়া হবে।”
তারেকের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, আইন শৃঙ্খলা ও দুর্নীতি মোকাবেলা করা বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের মূল অংশ হতে পারে। তবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারী কাঠামোর সংস্কার ও তহবিলের সুষ্ঠু বণ্টন প্রয়োজন।
পরবর্তী সময়ে তারেকের দল এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবে বলে জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলাফল দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



