বিএনপির গুলশান শাখা ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি কর্মশালায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা যাইমা রহমান অনলাইন হয়রানির প্রতিরোধে ডিজিটাল শিক্ষা অপরিহার্য বলে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা না থাকলে ব্যবহারকারীরা সহজেই শিকার হতে পারে। তাই ডিজিটাল সাক্ষরতা না থাকলে তরুণ প্রজন্মের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
কর্মশালাটি গুলশানের জাস্টিস শাহাবুদ্দিন পার্কে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি দশজন শীর্ষ রিল প্রযোজকের সঙ্গে তাদের “বাংলাদেশের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি” থিমের ওপর আলাপচারিতা করেন। রিল প্রযোজকরা তাদের সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধারণা উপস্থাপন করে উপস্থিতদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
যাইমা রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল অনলাইন হয়রানি মোকাবিলায় ডিজিটাল শিক্ষা কীভাবে কার্যকর হতে পারে। তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদেরকে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করার মৌলিক নীতি শিখিয়ে দিলে অনেক সমস্যার পূর্বেই সমাধান করা সম্ভব। এছাড়া হ্যাকিং প্রতিরোধ, ঘটনার রিপোর্টিং পদ্ধতি এবং কমিউনিটি ডেস্কের প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
ডিজিটাল শিক্ষা পরিকল্পনায় তিনি হ্যাকিং রোধের জন্য মৌলিক সাইবার নিরাপত্তা টুলের ব্যবহার শেখানোর পরামর্শ দেন। ব্যবহারকারীরা কীভাবে পাসওয়ার্ড নিরাপদ রাখবে, দুই-ধাপ যাচাই প্রয়োগ করবে এবং সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করবে তা শেখানো উচিত। এসব জ্ঞান তরুণ ব্যবহারকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং অনলাইন হুমকি থেকে রক্ষা করে।
রিপোর্টিং প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি অভিযোগের ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন। ব্যবহারকারীরা যদি কোনো হয়রানি, হ্যাকিং বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সম্মুখীন হন, তবে এক ক্লিকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবে এমন সিস্টেম তৈরি করা জরুরি। এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।
কমিউনিটি ডেস্কের ধারণা তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন, যেখানে স্থানীয় স্তরে সমস্যার সমাধান করা যাবে। প্রতিটি পাড়া বা নগরে একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হলে, সাইবার সমস্যার প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান সহজ হবে। স্থানীয় মানুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দ্রুত এবং কার্যকর হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব করার জন্য তিনি বললেন, “যদি কোনো এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটে, স্থানীয় মানুষই তা পরিচালনা করতে পারবে”। এই পদ্ধতি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বেশি বাস্তবিক এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে। ফলে সাইবার অপরাধের প্রভাব কমে যায় এবং ব্যবহারকারীর আস্থা বৃদ্ধি পায়।
যাইমা রহমান অতীতের সফল ক্যাম্পেইনগুলোর উদাহরণ দিয়ে তার যুক্তি শক্তিশালী করেন। তিনি ২০০২-২০০৩ সালের অ্যান্টি-অ্যাসিড ভায়োলেন্স ক্যাম্পেইনের কথা উল্লেখ করে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও জনসচেতনতায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। একই ধরনের সংগঠিত প্রচেষ্টা অনলাইন হয়রানির ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা উচিত।
অতএব, তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমস্যার সমাধানে ধারাবাহিক আলোচনা এবং পরিকল্পনা অপরিহার্য। কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা না হলে সমাধান বের করা কঠিন হয়ে যায়, তাই সকল স্তরের মানুষকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরি করা দরকার।
অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা না হলে কোনো সমাধান সম্ভব নয়, এ কথা তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি সবাইকে আহ্বান করেন, ডিজিটাল শিক্ষা বিষয়টি জাতীয় অগ্রাধিকারে রাখার জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিতে। এভাবে সমাজের সব স্তরে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস হিসেবে তিনি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখ করেন: প্রথমে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং তা নিয়মিত পরিবর্তন করুন; দ্বিতীয়ত, সন্দেহজনক ইমেইল বা লিঙ্কে ক্লিক না করে সতর্ক থাকুন; তৃতীয়ত, কোনো অনলাইন হয়রানি বা হ্যাকিং ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করুন এবং স্থানীয় কমিউনিটি ডেস্কের সাহায্য নিন। এই সহজ পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে অনলাইন নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।



