ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) শনি বিকেলে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং আমতলি মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত মুন্সীগঞ্জ‑২ আসনের প্রার্থী কে এম বিল্লাল হোসাইনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মঞ্চে তার বক্তব্যে তিনি দেশের স্বার্থে কাজ করা দলগুলোর মধ্যে কিছু গোষ্ঠীকে ‘দেশকে ভালোবাসার নামে’ গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, ইসলামি আন্দোলন এখন একা নয়, বরং অন্য কিছু গোষ্ঠী একা হয়ে গিয়েছে।
চরমোনাই পীরের মতে, জুলাই মাসে ঘটিত অভ্যুত্থানের পর কিছু ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী এককভাবে শাসন দখল করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের পরিকল্পনা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গঠন করা হয় এবং তারা ইসলামিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে।
তিনি আরও বলেন, শারিয়া আইনের অধীনে দেশের পরিচালনা করা উচিত, তবে কিছু গোষ্ঠী এই নীতি ব্যবহার করে নিজের স্বার্থে কাজ করছে। তার কথায় স্পষ্ট যে, তিনি এই গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে দেশপ্রেমের ছদ্মবেশে গোপন বৈঠক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বক্তৃতার সময় তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ইসলামী দলগুলোও নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য নেতাদের প্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, তিনি ইসলামি আন্দোলনের একক অবস্থানকে জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
চরমোনাই পীরের মন্তব্যের পর তিনি মুন্সীগঞ্জ‑২ আসনের প্রার্থী কে এম বিল্লাল হোসাইনের জন্য ভোটের আবেদন করেন। তিনি উপস্থিত সমাবেশের সদস্যদেরকে হোসাইনের সমর্থনে ভোট দিতে আহ্বান জানান।
এই র্যালি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অংশগ্রহণের লক্ষণ দেখিয়েছে। মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকগণ পীরের বক্তব্যে মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তার আহ্বান অনুসরণে প্রস্তুত হচ্ছেন।
প্রতিপক্ষের কোনো সরাসরি মন্তব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে, স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেছেন যে, পীরের এই অভিযোগগুলো নির্বাচনী সময়ে বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক করার অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃত্বের এই রকম রেটোরিক্স পূর্বের নির্বাচনী রণকৌশলের অংশ হতে পারে, যেখানে তারা নিজেদের স্বতন্ত্রতা ও স্বদেশপ্রেমের পরিচয় তুলে ধরে।
আসন্ন নির্বাচনে এই ধরনের বক্তব্য ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষত ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী ভিত্তিতে ভোটারগণকে আকৃষ্ট করার জন্য।
অবশেষে, পীরের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে সাড়া দেবে এবং গোপন বৈঠকের অভিযোগের সত্যতা কীভাবে যাচাই হবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে। এই বিষয়গুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় আনতে পারে।



