20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে বয়কটের ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে বয়কটের ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

বিসিসিআই শেষ পর্যন্ত ভারতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে না। তবে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো কোনো নতুন ঘটনা নয়; ফুটবল বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের ইতিহাসে বয়কটের বহু উদাহরণ রয়েছে।

প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপের বয়কটের সূচনা ১৯৩০ সালের উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে দেখা যায়। আয়োজক দেশ নির্বাচনের লড়াইয়ে হেরে যাওয়ায় ইতালি, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও স্পেন উরুগুয়েতে অংশ নিতে পারল না। একই সঙ্গে দীর্ঘ নৌযাত্রা এড়াতে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডও দূরে রইল। ফিফার সঙ্গে বিরোধের কারণে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ডও এই প্রথম বিশ্বকাপ বর্জন করে।

১৯৩৪ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও বয়কটের ছাপ দেখা যায়। পূর্বে দক্ষিণ আমেরিকায় না গিয়েছিল ইউরোপের দলগুলো, এবার উল্টোভাবে উরুগুয়ে, যা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। চার বছর পর, ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৫০ সালের ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও দুই দেশ অংশ না নেয়। ভারত, যা খালি পায়ে খেলতে দেওয়া নিয়ে ফিফার আপত্তি পায়, সেই কারণে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় এবং পরবর্তীতে আর কখনো ফুটবল বিশ্বকাপে যোগ দিতে পারে না। তুরস্ক আর্থিক সংকটের মুখে এই ইভেন্টে অংশ নিতে পারল না।

১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশগুলো একত্রে বয়কটের পদক্ষেপ নেয়। এসময় এশিয়া ও আফ্রিকায় মাত্র এক দেশই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত। আফ্রিকান ১৫টি দেশ ফিফার অস্বীকৃতি জানালে, ফিফা বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের সংখ্যা বাড়াতে চেয়ে, একসাথে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। একই বছর মরক্কো, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে সরে দাঁড়ায়।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে সোভিয়েত ইউনিয়নের বয়কটের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। চিলির সান্তিয়াগো স্টেডিয়ামে প্লে‑অফ ম্যাচে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো পর, চিলি ওয়াক‑ওভার পেয়ে মূল পর্যায়ে স্থান পায়।

অলিম্পিকের ক্ষেত্রেও বয়কটের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে নাৎসি জার্মানির বর্ণবাদী নীতি বিরোধে স্পেন অংশ না নেয়। ১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিকে সাতটি দেশ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। হাঙ্গেরিতে সোভিয়েত আগ্রাসনের প্রতিবাদে নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড অলিম্পিক থেকে সরে দাঁড়ায়। এছাড়া সুয়েজ সংকটের কারণে কিছু দেশ অংশ নিতে পারল না।

এইসব উদাহরণ দেখায় যে ক্রীড়া ইভেন্টে রাজনৈতিক, আর্থিক বা লজিস্টিক কারণেই দেশগুলো কখনো কখনো অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বয়কটের পেছনে একই ধরনের জটিলতা রয়েছে, যদিও কারণগুলো ভিন্ন।

বিসিসিআইর সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি ভক্তদের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হারাতে হবে, তবে ইতিহাসে বয়কটের ধারাবাহিকতা দেখায় যে ক্রীড়া ও রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে কখনো বিচ্ছিন্ন নয়। ভবিষ্যতে ক্রীড়া সংস্থাগুলো কীভাবে এই ধরনের দ্বন্দ্ব মোকাবেলা করবে, তা সময়ই বলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments