বগুড়া, ২৪ জানুয়ারি – আইডিয়াল নার্সিং কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে শনিবার সকালবেলায় ক্যাম্পাসের হল রুমে একটি ফুড ফেয়ার আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা মনোভাবকে উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা।
ফেয়ারটি সকাল ৯টায় শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে চলেছে, যেখানে বিভিন্ন খাবারের স্টল গড়ে তোলা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা নিজস্বভাবে মেনু পরিকল্পনা, খাবার প্রস্তুত ও বিক্রয় পরিচালনা করেছে, ফলে একটি স্বতন্ত্র ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোঃ মনজুর হোসেন অনুষ্ঠানের প্রধান চেয়ারম্যান হিসেবে সমাবেশের সূচনা করেন। তিনি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোঃ ওয়াদুদুল হক। তিনি ফেয়ারকে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশের একটি মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করে, খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রমজান আলী আকন্দ, আইডিয়াল গ্রুপের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সরকার, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সেলিম রেজা, পরিচালক প্রশাসন মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন এবং পরিচালনা পরিষদের সদস্য জুলফিকার আলী বাবু। তারা প্রত্যেকেই শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়ে, ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ উদ্যোগের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
ফুড ফেয়ারে স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি কিছু আন্তর্জাতিক রেসিপি ও হালকা স্ন্যাকসও পরিবেশন করা হয়। স্টলগুলোতে স্যুপ, পান্তা ভাত, চাটনি, পিজা, স্যান্ডউইচ এবং ফলের রসের মতো আইটেম ছিল, যা উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা খাবারের স্বাদ, উপস্থাপনা ও পরিষ্কার পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে।
এই ধরনের ইভেন্ট শিক্ষার্থীদের বাস্তবিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, দলগত কাজ এবং গ্রাহক সেবা শিখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত করে সামাজিক সংযোগের সেতু গড়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক ও অভিভাবকরা খাবারের স্বাদ ও গুণমানের প্রশংসা করেন, এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বেশ কয়েকজন উপস্থিতি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
ইভেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বচ্ছল প্রবেশদ্বার ও স্যানিটেশন স্টেশন স্থাপন করা হয়। কলেজের প্রশাসনিক দল ও স্বেচ্ছাসেবকরা খাবারের গুণমান পরীক্ষা, নগদ লেনদেনের রেকর্ড এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন।
ফুড ফেয়ারটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, শিক্ষার্থীদের পরবর্তী উদ্যোগের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রথমে, পরিকল্পনা পর্যায়ে বাজেট ও সরবরাহকারীর তালিকা তৈরি করা উচিত; দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যবিধি মানদণ্ড মেনে চলা এবং গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ; তৃতীয়ত, সামাজিক মিডিয়া ও স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে অংশগ্রহণ বাড়ানো যায়। আপনার ক্যাম্পাসে এ ধরনের ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলে, এই ধাপগুলো অনুসরণ করে সফলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।



