শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, শনিবার সিরাজগঞ্জের ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত দশ দলীয় জোটের নির্বাচনী সভায় নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দলটি ঘরে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে নারী-পুরুষের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
দশ দলীয় জোটের সম্ভাব্য গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনায় নারী বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শফিকুরের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য হল, যদি জামায়াত-এ-ইসলামি ক্ষমতায় আসে, তবে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে রাষ্ট্রের অগ্রগণ্য নীতি হিসেবে গৃহীত হবে।
বক্তৃতায় তিনি নবী মুহাম্মদের (সা.) স্ত্রীদেরকে যুদ্ধের সময় সৈনিকের সঙ্গে নিয়ে গেছেন এমন উদাহরণ তুলে ধরে, নারীর ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী বলে জোর দেন। তিনি বলেন, আকাশের নিচে, পৃথিবীর উপরে এমন কোনো কাজ নেই যা নারীরা না করতে পারে, যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
শফিকুরের মতে, বর্তমান সমাজে নারীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, তবে দুইটি মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়নি – নিরাপত্তা এবং মর্যাদা। তিনি এ দুইটি ঘাটতি দূর না হলে নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণ সম্ভব নয়, এ বিষয়টি জোর দিয়ে বলেন।
প্রতিশ্রুতির মূল অংশে তিনি উল্লেখ করেন, যদি সরকার পরিচালনার সুযোগ পান, তবে নারীর ঘরে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। এই প্রতিশ্রুতি তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দে শেষ করেন, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দৃঢ়তা প্রকাশ করে।
শফিকুরের বক্তব্যের সময় উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে জামায়াত-এ-ইসলামির সমর্থকরা তালি দিয়ে স্বাগত জানায়। তিনি বলেন, মায়ের ইজ্জত জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান, এবং এই মূল্যকে সম্মান না করা কোনো দলই সত্যিকারের সমাজ গঠন করতে পারে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আজকের দিনে যারা উচ্চস্বরে কথা বলে, তাদের কাজের ফলে নারীরা নানা রকম ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তিনি এই ধরনের আচরণকে ‘বীভৎস চিত্র’ বলে বর্ণনা করেন এবং সমাজকে সতর্ক করেন যে, এ ধরনের নিন্দা অব্যাহত থাকলে নারীর অধিকার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শফিকুরের মতে, পরিবার গঠনের মতোই নারী-পুরুষের সমন্বয়ে একটি দেশ ও সমাজ গড়ে ওঠে। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে জোর দেন যে, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা ছাড়া কোনো সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা জামায়াত-এ-ইসলামির এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করেন, যদি দলটি ক্ষমতায় আসে, তবে নারীর স্বাধীনতা, শিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ সীমিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের মন্তব্যগুলো শফিকুরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দশ দলীয় জোটের গঠন যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা বিষয়ক প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। শফিকুরের এই প্রতিশ্রুতি পার্টির ভোটার ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনাও তীব্র হবে। ভবিষ্যতে সরকার গঠনের আলোচনায় এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



