28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যচীনের অনুদানে নীলফামারীতে ১০ তলা, ১,০০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা

চীনের অনুদানে নীলফামারীতে ১০ তলা, ১,০০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা

চীনের আর্থিক সহায়তায় নীলফামারী জেলায় ১০ তলা, ১,০০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদনের প্রান্তে। স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমানের মতে, নীলফামারীতে বর্তমানে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল নেই, তাই চীনের অনুদানকে কাজে লাগিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার ও পরিকল্পনা কমিশনের সমন্বয়ে গৃহীত এবং আগামী সপ্তাহে অন্তর্বর্তী সরকারের একনেক বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রত্যাশিত।

প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ২,২৯২ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যার মধ্যে চীন সরকার ২,২১৯ কোটি টাকা অনুদান দেবে। অবশিষ্ট ৭৩ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার সরবরাহ করবে। চীনের আর্থিক সহায়তা অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার হবে, আর কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। এই আর্থিক কাঠামো নিশ্চিত করে যে হাসপাতালের নির্মাণ ও পরিচালনা উভয়ই সময়মতো সম্পন্ন হবে।

হাসপাতাল নির্মাণের জন্য আবেদন ও স্থান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় উত্তরবঙ্গের থাকুরগাঁও, রংপুর, পঞ্চগড়সহ কমপক্ষে বিশটি জেলা অংশগ্রহণ করেছিল। প্রতিটি জেলার আবেদনপত্র ও প্রস্তাবিত স্থানের উপযোগিতা মূল্যায়নের পর নীলফামারীকে চূড়ান্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ঘাটতি, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং পরিবহন সুবিধা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।

দুই বছর আগে চীন সরকার বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। সেই সময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আবেদনপত্র জমা হয়, এবং থাকুরগাঁও, রংপুর ও পঞ্চগড়ের বাসিন্দারা ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ গঠনের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন চালায়। অন্যান্য জেলার মানুষও নিজেদের এলাকায় একই ধরনের হাসপাতাল স্থাপনের দাবি তোলেন, ফলে একাধিক আলোচনার পর নীলফামারীকে চূড়ান্ত প্রস্তাবিত জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রকল্পের মূল ভবন ১০ তলা বিশিষ্ট হবে, যেখানে রোগীর জন্য আলাদা ওয়িং, অপারেশন থিয়েটার এবং আইসিইউ থাকবে। চিকিৎসক ও জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের জন্য আরেকটি ১০ তলা ভবন নির্মিত হবে, যেখানে তাদের অফিস ও গবেষণা সুবিধা থাকবে। নার্সদের জন্য ৬ তলা ডরমিটরি এবং অন্যান্য কর্মচারীদের জন্য ১০ তলা কর্মস্থল ভবন পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সরঞ্জাম সংরক্ষণ এবং সেবা প্রদানকারী অতিরিক্ত ভবনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, পাশাপাশি জরুরি রেসকিউয়ের জন্য একটি হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা করা হবে।

হাসপাতালের অবকাঠামো সম্পন্ন হওয়ার পর কর্মী নিয়োগের কাজ বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা করবে। চিকিৎসক, নার্স, প্রযুক্তিবিদ এবং সহায়ক কর্মীসহ প্রয়োজনীয় সকল পেশাজীবীকে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল ইনস্টিটিউট ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ন্যায্য ও স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। সম্পন্ন হওয়ার পর নীলফামারী ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছাবে, যা রোগীর ভ্রমণ সময় ও খরচ কমাবে। বিশেষ করে জরুরি সেবা, শল্যচিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগের চিকিৎসায় এই হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমানের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের অনুদান অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করবে, আর বাংলাদেশ সরকার কর্মী নিয়োগে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে। এই সহযোগিতা দুই দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পারস্পরিক মৈত্রীকে দৃঢ় করবে এবং নীলফামারীর স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নত করবে।

স্থানীয় জনগণ এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। তারা আশা করে যে নতুন হাসপাতালটি রোগীর সেবা গুণমান বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রোগীর নিরাপত্তা ও সেবা মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্থায়িত্বে সহায়তা করবে।

এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন নীলফামারীকে উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য মানচিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments