22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতি

জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতি

বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেসা মাঠে দুই দিনের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমীর শফিকুর রহমান একটি বিশাল সমাবেশের সামনে নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি তার দল শাসনে আসে তবে নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। এই ঘোষণার পটভূমি হল সাম্প্রতিক সময়ে নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত জনসাধারণের উদ্বেগের বৃদ্ধি।

শফিকুর রহমান বলেন, নারীর গৌরবকে জীবনের চেয়ে অধিক মূল্য দিতে হবে এবং কোনো ধরনের অবমাননা সহ্য করা হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারকে নারীর সড়ক চলাচল ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে নারী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতি গঠনে অংশ নিতে পারে।

ইসলামী ঐতিহ্যকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, নবী মুহাম্মদ (সা.) যুদ্ধক্ষেত্রে নারীদের সৈনিক ও চিকিৎসক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এ থেকে তিনি উপসংহারে পৌঁছান যে, নারীর কাজের ক্ষেত্র সীমাবদ্ধ করা কোনো ধর্মীয় ভিত্তি রাখে না; বরং যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ঘরোয়া ও বাহ্যিক উভয় ক্ষেত্রেই সম্মানজনক স্থান তৈরি করা উচিত।

শফিকুরের মতে, যেসব নারী প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা রাখেন, তাদের জন্য ঘরে এবং কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি এও বলেন, নারীর মর্যাদা রক্ষায় কোনো ধরনের সহনশীলতা থাকবে না এবং সরকারকে এই নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

যুবকদের জন্য তিনি বেকারত্ব ভাতা প্রদান না করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। শফিকুর বলেন, বেকারত্ব ভাতা দিয়ে বাংলাদেশকে ‘বেকারদের কারখানা’তে রূপান্তর করা উচিত নয়; বরং প্রতিটি যুবক ও যুবতীকে জাতি গঠনের কাজে যুক্ত করা উচিত। এই নীতি অনুযায়ী যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।

স্থানীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত his মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে শহীদ চাঁদু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জামায়াত‑ই‑ইসলামি শাসনে এ স্টেডিয়াম পুনরুজ্জীবিত করে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজনের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

বগুড়া শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তিনি শহরটিকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং জামুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এই সেতু গৌবিন্দা জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহনকে সহজতর করবে।

প্রতিপক্ষ দলগুলো শফিকুরের এই ঘোষণার প্রতি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, নারী নিরাপত্তা ও যুব নীতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবায়নযোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো সরকারী দায়িত্বের প্রতি শফিকুরের দাবি যথাযথভাবে পালন না করলে ভোটারদের আস্থা হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

এই সমাবেশের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠবে যখন নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হবে। যদি জামায়াত‑ই‑ইসলামি শাসনে আসে, তবে শফিকুরের প্রতিশ্রুতিগুলো নীতি রূপে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে; অন্যথায়, এই ঘোষণাগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো ভোটার আকৃষ্ট করার জন্য একটি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। বর্তমান সময়ে নারী নিরাপত্তা, যুব কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়গুলো দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, এবং শফিকুরের প্রতিশ্রুতি এই আলোচনাকে নতুন দিক দেয়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments