বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (ডিইআই) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি দেশের স্বার্থে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কোনো প্রতারক, ধান্দাবাজ বা কসাইদের হাতে দেশকে হস্তান্তর করতে দেবেন না।
সভায় তিনি দুই দলের নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কিছু লোক বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে, যা তিনি সহ্য করতে পারছেন না। তিনি নিজের ঠিকানা উল্লেখ করে বলেন, তার বাড়ি ঢাকা ও শাহজাহানপুরে রয়েছে এবং তিনি ঠিকানাবিহীন নন, এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।
মির্জা আব্বাস দেশের প্রয়োজনে রাজপথে দাঁড়িয়ে কাজ করার ইচ্ছা পুনরায় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যা কিছু করা দরকার, সবই তিনি করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তার এই বক্তব্যে তিনি ইন্সা’আল্লাহ শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য কাজ চালিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দেন।
আলোচনা সভায় নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যেও মির্জা আব্বাস কিছু কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিল, কিন্তু এখন দেশের কল্যাণে কাজের পথে এগিয়ে এসেছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তরুণ রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেমিক দায়িত্বের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বহুজন অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিতির মাধ্যমে দলটি শহীদ প্রেসিডেন্টের স্মরণে একত্রিত হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
মির্জা আব্বাসের এই অঙ্গীকারের পেছনে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শহীদ প্রেসিডেন্টের জন্মবার্ষিকীর উপলক্ষে এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে দলটি তার ঐতিহ্য ও আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে, বিরোধী দলের প্রতি সমালোচনা তুলে ধরে দলীয় ঐক্য ও দৃঢ়তা জোরদার করা হচ্ছে।
বিএনপির এই সভা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মির্জা আব্বাসের দৃঢ় অবস্থান ও দেশের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল ও নির্বাচনী প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে, তিনি যে ভাবে নিজের ঠিকানা ও পরিচয় স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, তা দলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি গুরুত্বারোপের সূচক হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বিএনপি এই ধরনের ইভেন্টের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্টের স্মরণে জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চায় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে ভোটারদের কাছে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে চায়। ভবিষ্যতে দলটি কীভাবে এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপান্তরিত করবে এবং নির্বাচনী মঞ্চে কীভাবে ব্যবহার করবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



