বিসিসিআই (আইসিসি) কর্তৃক ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে অনুষ্ঠিত ভোটে বাংলাদেশ ১৪-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে ধরে শ্রীলঙ্কা স্থানান্তরের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত অস্বীকার করা হয়। ফলে বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতে ম্যাচ খেলতে বাধ্য করা হয়।
ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত বিসিবি (বিসিবি) পূর্বে হাইব্রিড মডেলে ভারত ও শ্রীলঙ্কা দুটো দেশে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ উল্লেখ করে শ্রীলঙ্কা ভেন্যু প্রস্তাবটি আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। ভোটে অধিকাংশ সদস্য শ্রীলঙ্কা পরিবর্তনকে অনুকূল না দেখায়।
ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ যে যুক্তি উপস্থাপন করেছিল, তা মূলত ভৌগোলিক নিকটতা এবং ভ্রমণ ব্যয়ের হ্রাসের উপর ভিত্তি করে ছিল। আইসিসি সদস্য দেশগুলো এই দিকগুলোকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে মূল্যায়ন করে ভোটে সমর্থন না দেয়। ফলস্বরূপ, শ্রীলঙ্কা ভেন্যু প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এই ফলাফলের পর বাংলাদেশ আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ সুযোগ হিসেবে ডিআরসি (Dispute Resolution Committee) এর কাছে আবেদন করে। ডিআরসি নিজস্ব এখতিয়ার সংক্রান্ত আইনের ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশের আবেদনকে খারিজ করে। কমিটির বিধিমালার ধারা ১.৩ স্পষ্টভাবে বলে যে ডিআরসি আইসিসি বা তার অনুমোদিত কোনো কমিটির সিদ্ধান্তের আপিল বিভাগ হিসেবে কাজ করতে পারে না।
ডিআরসির এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল যে আপিলের অধিকার শুধুমাত্র আইসিসি নিজেই বা নির্ধারিত উচ্চতর সংস্থারই রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে আর কোনো আনুষ্ঠানিক চ্যানেল থেকে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করার সুযোগ নেই। আইসিসির পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তই এখনো কার্যকর অবস্থায় রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শ্রীলঙ্কা ভেন্যুতে খেলা না পেলে দলকে ভারতের মাটিতে ম্যাচ সম্পন্ন করতে হবে, যা পূর্বে নির্ধারিত হাইব্রিড মডেলের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে পরিকল্পিত ছিল।
বিসিবি এই সিদ্ধান্তের পর প্রকাশ্যে জানিয়েছে যে ভেন্যু পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ থাকবে না এবং আইসিসির বর্তমান রায়ই চূড়ান্ত। এছাড়া, শ্রীলঙ্কা ভেন্যু প্রত্যাখ্যানের পর কোন দলকে অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শনিবারের মধ্যেই আসতে পারে।
আইসিসি কর্তৃক শ্রীলঙ্কা ভেন্যু প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যদিও বাংলাদেশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়।
বিসিবি উল্লেখ করেছে যে শ্রীলঙ্কা ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পুনর্বিবেচনা করা হবে না। তাই বাংলাদেশকে এখনো আইসিসির শর্তাবলী মেনে ভারতীয় মাটিতে ম্যাচ সম্পন্ন করতে হবে।
বিশ্বকাপের সময়সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত, এবং ভারতীয় ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম রাউন্ডের বেশিরভাগ ম্যাচ। বাংলাদেশ যদি অংশগ্রহণের অনুমতি পায়, তবে তাদের দলকে ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ বরাদ্দ করতে হবে।
এই বিকল্পের অভাবে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে হতাশা দেখা দিচ্ছে, তবে বিসিবি জানিয়েছে যে দলটি প্রস্তুত থাকবে এবং আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই সকল প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।
সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশিত হতে পারে যে কোন দল অতিরিক্ত সিট পাবে, যা টুর্নামেন্টের কাঠামোতে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বর্তমান অবস্থায় বাংলাদেশি দলকে শ্রীলঙ্কা ভেন্যুতে খেলা সম্ভব নয় এবং আইসিসির সিদ্ধান্তই শেষ বলে গণ্য করা হচ্ছে।



