গাজীপুর মেট্রোপলিটন সিটির কনাবারিতে আজ জামুনা ডেনিমস লিমিটেড কারখানার সামনে গার্মেন্ট কর্মীদের প্রতিবাদে শিল্প পুলিশ গ্যাস শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে অন্তত দশজন কর্মী আহত হয়, কিছু আহতকে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা আটটি দাবি নিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের দাবি তালিকায় কারখানার পরিচালক পদত্যাগ, বকেয়া বার্ষিক ছুটির বেতন আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিশোধ, টিফিন ভাতা টাকার ৫০ টাকা নির্ধারণ, রাত ১০টার পরে রাতের ডিউটি ভাতা টাকার ১৫০, সকল কর্মীর জন্য উপস্থিতি বোনাস টাকার ১,০০০, মাসিক বেতন প্রত্যেক মাসের ৭ তারিখের মধ্যে প্রদান, জরুরি ছুটির অনুমোদন এবং কারখানার মেঝেতে অবমাননাকর ভাষা ও অপমানজনক আচরণ বন্ধ করা।
কনাবারি জোনের ইন্সপেক্টর মোরশেদ জামান জানান, কর্মীদের প্রতিবাদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বিকালের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত রয়েছে।
কর্মীরা দাবি করেন, গ্যাস শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের ফলে ৫০ টিরও বেশি কর্মী আহত হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। যদিও পুলিশ সূত্রে আহতের সংখ্যা দশের কাছাকাছি বলা হয়েছে, তবে কর্মীদের মতে প্রকৃত সংখ্যা বেশি।
কারখানা ব্যবস্থাপনা পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, কর্মীদের দাবিগুলি বিবেচনা করা হবে, তবে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কারখানাটি অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা দাবি করে যে, তারা কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সুনির্দিষ্ট সমাধান এখনো নির্ধারিত হয়নি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডের ব্যবহারকে অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করা হলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়া, আহত কর্মীদের চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিকন্তু, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা ও শ্রম মন্ত্রণালয়কে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই রকম পরিস্থিতি এড়াতে শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বিত আলোচনা ও সমঝোতা চুক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার কথা বিবেচনা করছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আদালতে হাজির করা হতে পারে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, গাজীপুরের অন্যান্য গার্মেন্ট কারখানায়ও কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো দাবি করছে যে, ভবিষ্যতে গ্যাস বা অন্যান্য হিংসাত্মক উপকরণ ব্যবহার না করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসরণ করা উচিত।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল অনুযায়ী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হয়েছে।



