শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের উপলক্ষে ২৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তরুণদের রাষ্ট্রীয় সংস্থায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদসহ সকল সরকারি সংস্থায় যুবক-যুবতীর উপস্থিতি বাড়লে নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হবে।
এই আলোচনাসভা আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু হয় এবং বিভিন্ন সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভার সভাপতিত্ব করেন, শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
উপদেষ্টা সি আর আবরার জোর দিয়ে বলেন, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তন সম্পূর্ণ হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য সরকারি কাঠামোতে যুব প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো দরকার, কারণ এসব সংস্থা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এবং জনগণই তাদের প্রকৃত মালিক।
বয়সের বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এমন উদ্বেগ তিনি প্রকাশ করেন। সংস্কৃতি, সঙ্গীত, নৃত্য বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হেয় করা অনুচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং একতরফা চিন্তাধারার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরাসরি ও ধারাবাহিক সংলাপ অপরিহার্য। সংবেদনশীল প্রশাসন, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি যুবকদেরকে সামাজিক সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণরা যদি নিজেদের মতামত প্রকাশের জন্য সঠিক প্ল্যাটফর্ম পায়, তবে তারা সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
আলোচনা শেষে উপস্থিত অতিথিরা তরুণ প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে যুব সংস্থার অংশগ্রহণের পথ সুগম করার প্রতিশ্রুতি জানান। সকল অংশগ্রহণকারী একমত হন যে, নীতি প্রণয়নে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তরুণ দৃষ্টিভঙ্গি সমন্বয় করা উচিত।
প্রতিবেদনটি শেষ করার আগে, তরুণ পাঠকদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ রাখা হলো: যদি আপনি আপনার এলাকার কোনো সরকারি প্রকল্প বা নীতিতে অংশ নিতে চান, তবে স্থানীয় যুব সংগঠন বা সিভিল সোসাইটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সুযোগ তৈরি করুন। এভাবে আপনি আপনার সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশ হতে পারবেন।



