চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলার শরীফুল, ২০২৩-২৪ বিপিএল মৌসুমে ১২টি ম্যাচে ৪৪.৫ ওভার (২৬৯ ডেলিভারি) বোলিং করে ২৬টি উইকেট নেন। তার গড় রান প্রতি ওভার ৫.৮৪, যা স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে এক সিজনে সর্বোচ্চ ইকোনমি রেট অর্জনকারী বাংলাদেশি বোলার হিসেবে রেকর্ড হয়।
শরীফুলের ক্যারিয়ারের মূল লক্ষ্য সবসময় উইকেট সংগ্রহ করা, তবে এই মৌসুমে তিনি কেবল উইকেটই নয়, রান দানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচে তার ইকোনমি রেট ৮.১১, দেশীয় টি-টুয়েন্টিতে ৮.২৪, যা দেখায় যে বিপিএল ফরম্যাটে তিনি বিশেষভাবে কার্যকরী।
বিপিএল ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরাজয়ের পরেও তার ইকোনমি রেটের গৌরব অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে। এই রেটটি ২০১১ আইপিএলে লাসিথ ম্যালিঙ্গার ৫.৯৫ রেটের চেয়ে কম, যিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে ৬৩ ওভার (৩৭৮ ডেলিভারি) বোলিং করে ২৮টি উইকেট নেন। ম্যালিঙ্গার ঐ সিজনে স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ইকোনমি রেটের রেকর্ড ধারন করতেন, যা এখন শরীফুল ভেঙে দিয়েছেন।
শরীফুলের এই সাফল্য শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত গৌরব নয়, বরং দেশের বোলারদের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে এক মৌসুমে কমপক্ষে ২৫ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তার ইকোনমি রেট এখন সেরা, যা দেশের বোলারদের মধ্যে তার অবস্থানকে দৃঢ় করে।
বিপিএল সিজনে শুধুমাত্র শরীফুল এবং ম্যালিঙ্গাই গড়ে ৬ রানের নিচে ইকোনমি রেট বজায় রেখেছেন; বাকি সব বোলারদের রেট ৬ রানের উপরে। তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন নিউজিল্যান্ডের স্পিনার জিতান প্যাটে, যাঁর রেটও ৬ রানের কাছাকাছি। এই তুলনা দেখায় যে শরীফুলের পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি।
শরীফুলের এই অর্জন তার পরিবার ও ভক্তদের জন্য গর্বের বিষয়। যদিও কোনো ট্রফি বা চেক নেই, তবে তার নাম এখন দেশের যে কোনো ক্রিকেটপ্রেমীর তালিকায় গর্বের স্থান পেয়েছে। তার পরিসংখ্যানিক সাফল্য ভবিষ্যতে বিপিএল এবং আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচে তার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরবর্তী ম্যাচে শরীফুলের বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর দৃষ্টি থাকবে, বিশেষ করে তার ইকোনমি রেট বজায় রাখার ক্ষমতা। দলটি শীঘ্রই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, যেখানে তার উইকেটশিকারের দক্ষতা এবং রান দানের নিয়ন্ত্রণ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শরীফুলের এই মৌসুমের সাফল্য দেশের টি-টুয়েন্টি বোলারদের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও তরুণ বোলারকে উচ্চমানের পারফরম্যান্সের দিকে উৎসাহিত করবে। তার গড় রান প্রতি ওভার ৫.৮৪, যা স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে এক সিজনে সর্বোচ্চ ইকোনমি রেটের নতুন রেকর্ড, তা দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



