স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপের শিরোপা দৌড়ে কেল্টিকের মুখে হার্টসের চাপ বাড়ছে, দু’দল রবিবার টাইনক্যাসল পার্কে মুখোমুখি হবে। টেবিলের শীর্ষে থাকা এই ম্যাচটি উভয় ক্লাবের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা এখনই নির্ধারিত হচ্ছে।
কেল্টিকের জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বোলোনিয়ায় ইউরোپا লিগের ম্যাচটি একটি অপ্রয়োজনীয় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপাতের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা দলকে শিরোপা লড়াইয়ে মনোযোগ ভাগ করতে বাধ্য করছে, যা তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যাবারডিন স্কটিশ কাপের ধারক, আর সেন্ট মিরেন ডিসেম্বর মাসে লিগ কাপ জিতেছে। উভয় দল শিরোপা লড়াইয়ের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তবে তাদের সাফল্য স্কটল্যান্ডের ফুটবলের সমগ্র দৃশ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
কেল্টিক এখন শিরোপা লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ আধিপত্য আর স্বয়ংক্রিয় নয়। দলটি অতীতে ধারাবাহিকভাবে শিরোপা জিতলেও, বর্তমান পরিস্থিতি তা নিশ্চিত করে না, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বীরা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৯৩ থেকে কেল্টিক ধারাবাহিকভাবে চতুর্থ স্থানেই শেষ হয়ে মাদারওয়েলকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। রেঞ্জার্সও ২০১২ সালের আর্থিক সংকটের পর নিম্ন বিভাগে নেমে গিয়েছিল এবং দ্বিতীয় স্তরে প্রচার অর্জনে ব্যর্থতা দেখিয়েছিল। এই ঐতিহাসিক পতনগুলো বর্তমান শিরোপা লড়াইয়ের তীব্রতাকে বাড়িয়ে তুলেছে।
স্কটল্যান্ডের শীর্ষ লিগে অন্যান্য দলগুলোর তুলনামূলক দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়, তবে ওল্ড ফার্মের ভক্তরা ইতিমধ্যে আরও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে। তাই বর্তমান চ্যালেঞ্জকে অতিরিক্ত কঠিন বলে বিবেচনা করা যায় না।
রবিবারের ম্যাচের প্রস্তুতিতে টাইনক্যাসল পার্কে কেল্টিকের ভিজিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টনি ব্লুম, যিনি গত গ্রীষ্মে হার্টসের সঙ্গে তার অংশীদারিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন, তখনই দলকে ব্যাঘাত এবং গৌরবের পথে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার পূর্বাভাস এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
হার্টস এই মৌসুমে সবচেয়ে ধারাবাহিক এবং শক্তিশালী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, চার সপ্তাহ ধরে প্রিমিয়ারশিপের শীর্ষে রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা তাদেরকে শিরোপা দৌড়ে কেল্টিকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে।
কেল্টিকের জন্য এখন ছয় পয়েন্টের পার্থক্য কমিয়ে হার্টসের গৃহে পয়েন্ট সংগ্রহ করা জরুরি। এডিনবার্গে বল ধাক্কা দেওয়ার আগে এই ফাঁকটি পূরণ করা না হলে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
স্কটিশ ফুটবলের বৃহৎ দর্শকগণ হার্টসের শিরোপা জয়কে স্বাগত জানাবে না, বিশেষ করে হিবারনিয়ান ভক্তদের জন্য এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল। তবু গ্লাসগোতে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর লিগের পতাকা উড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বিদেশী মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
হার্টসও শেষ সপ্তাহে কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে, যা তাদের শিরোপা যাত্রাকে কিছুটা কঠিন করেছে। তবে দলটি এখনও শীর্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে এবং পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য রাখছে।



