ইউরোপের দুই শীর্ষ বিমান সংস্থা, ফ্রান্সের এয়ার ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের কেএলএম, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার ফলে দুবাইসহ কয়েকটি গন্তব্যে তাদের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। উভয় সংস্থা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে না পর্যন্ত অপারেশন চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এয়ার ফ্রান্স শুক্রবার প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুবাই রুটে চলমান ফ্লাইটগুলো অবিলম্বে স্থগিত করা হয়েছে। সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, পরিস্থিতি ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ঝুঁকি হ্রাস পেলে সময়সূচি পুনরায় চালু করা হবে।
বিমান সংস্থা জোর দিয়ে বলেছে যে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং তাই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এয়ার ফ্রান্সের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই অপারেশনাল সিদ্ধান্তগুলোও তা অনুসারে আপডেট করা হবে।
কেএলএমের ক্ষেত্রে, ডাচ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনওএসের তথ্য অনুযায়ী, তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম এবং রিয়াদ গন্তব্যে চলমান ফ্লাইটগুলোও একইভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, ইরাক, ইরান, ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো বিমান সংস্থার রুট নেটওয়ার্কে উল্লেখযোগ্য ফাঁক তৈরি করবে, বিশেষ করে ব্যবসা ও পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগগুলোতে প্রভাব পড়বে। দুবাই ও রিয়াদের মতো আর্থিক কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও লজিস্টিক্সে বিলম্বের সম্ভাবনা বাড়বে।
কেএলএমের রুট স্থগিতের ফলে রিজার্ভেশন বাতিল ও পুনঃবুকিং প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। যাত্রীদের বিকল্প রুট খুঁজতে অন্য এয়ারলাইন বা ট্রান্সফার ব্যবহার করতে হবে, যা টিকিটের দাম বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, বিমান সংস্থার ক্যাপাসিটি ব্যবহারের হার কমে আয় হ্রাসের ঝুঁকি দেখা দেবে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন যে, এয়ার ফ্রান্স ও কেএলএমের শেয়ার মূল্যে সাময়িকভাবে হ্রাস পেতে পারে, কারণ রুট বন্ধের ফলে আয় পূর্বাভাসে সমন্বয় প্রয়োজন হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই রুটগুলো পুনরায় চালু না করলে আয় পুনরুদ্ধার ধীর হতে পারে।
বিমান শিল্পে এই ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা প্রিমিয়াম বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা অপারেশনাল খরচে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, এয়ারলাইনগুলোকে বিকল্প রুট পরিকল্পনা ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে।
কেএলএমের আকাশসীমা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত ইরান ও ইরাকের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগের ওপরও প্রভাব ফেলবে, কারণ এই দেশগুলোতে ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও কার্গো শিপমেন্টের চাহিদা উল্লেখযোগ্য। ফলে, এয়ারলাইনগুলোকে অন্য এয়ারলাইন বা লজিস্টিক পার্টনারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় পারস্য উপসাগরে বড় নৌবহর পাঠানোর পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইরানকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা বিমান সংস্থার রুট পরিকল্পনায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন করবে।
সারসংক্ষেপে, এয়ার ফ্রান্স ও কেএলএমের রুট স্থগিতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন বাজারে স্বল্পমেয়াদী অস্থিরতা দেখা দেবে। যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রুট পুনরায় চালু না হলে আয় হ্রাস, খরচ বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি হ্রাসের ঝুঁকি থাকবে। সংস্থাগুলোকে বিকল্প রুট ও পুনঃবুকিং সেবা শক্তিশালী করে গ্রাহক সেবা বজায় রাখতে হবে, পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির জন্য আর্থিক রিজার্ভ প্রস্তুত রাখতে হবে।



