22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকএল‑ওবেইদে আবু সিট্টা মেয়েদের স্কুলে শেলিং, ১৩ নিহত, বহু আহত

এল‑ওবেইদে আবু সিট্টা মেয়েদের স্কুলে শেলিং, ১৩ নিহত, বহু আহত

আগস্ট ২০২৪-এ সুদানের নর্থ কর্দোফান রাজ্যের এল‑ওবেইদ শহরে অবস্থিত আবু সিট্টা মেয়েদের স্কুলে শেলিং ঘটেছে। ইংরেজি সাহিত্য ক্লাসে উপস্থিত ১৮ বছর বয়সী জোড়া বোন মাকারেম ও ইকরাম এবং তাদের সহপাঠীরা হঠাৎ গুলির আওয়াজে আতঙ্কিত হয়। শেলিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা দেয়ালের পাশে লুকিয়ে পড়ে, কিছুজন আহত হয় এবং কয়েকজনের প্রাণ শেষ হয়।

মাকারেমের কাঁধে গুলি আঘাতের ফলে হালকা চোট হয়, তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করে কাঁধের রক্তপাত লক্ষ্য করেন। তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সহপাঠী তৎক্ষণাৎ তার কাঁধে হাত রাখে এবং “তোমার কাঁধে রক্তপাত হচ্ছে” বলে সতর্ক করে। শেলিং চলাকালীন দুই বোন আলাদা ক্লাসে ছিলেন, তাই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

ইকরাম শেলিং শেষ হওয়ার পর বোনের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে, কিন্তু মাকারেম ইতিমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে গাড়ি ও গাধা টেনে টেনে হাসপাতালে পৌঁছে যায়। এল‑ওবেইদে কোনো সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা না থাকায় আহতদের এই ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক পরিবহনই একমাত্র উপায় ছিল।

মাকারেমের শিক্ষক ও ১৩ সহপাঠী শেলিংয়ে প্রাণ হারায়, বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। স্কুলের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩০০, ফলে শেলিংয়ের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

ইকরাম বোনের ফিরে আসার পর জানালেন, “আমি দরজার বাইরে অপেক্ষা করছিলাম, মাকারেম যখন ফিরে এলো, আমরা সবাই কাঁদতে বাধ্য হলাম।” তিনি এমন একটি ক্লাসে ছিলেন যা শেলিংয়ের প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছিল, তাই শারীরিকভাবে কোনো ক্ষতি পাননি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহায়তা বাহিনী (দ্রুত সহায়তা বাহিনী)কে দায়ী করেছে, যেহেতু তারা সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে চলমান সংঘাতে জড়িত। তবে দ্রুত সহায়তা বাহিনী এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং বিবিসির অনুরোধে সাড়া দেয়নি। শেলিংটি ইচ্ছাকৃত ছিল কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আহত বাচ্চা ও শিক্ষকদের জন্য চিকিৎসা সুবিধা সীমিত ছিল, ফলে রোগী ও পরিবারগুলোকে নিজে গাড়ি ও গাধা টেনে নিয়ে যেতে হয়। মাকারেমের পরিবার জানায়, “হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই আমরা জানলাম তিনি বেঁচে আছেন, অন্যথায় আমরা ভয় পেতাম যে তিনি মারা গেছেন।” এই অভিজ্ঞতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

শেলিংয়ের পর স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীরা ইকরামকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়, যাতে তিনি অতিরিক্ত ঝুঁকি থেকে বাঁচতে পারেন। বোনদের পুনর্মিলন এবং বেঁচে থাকা শিক্ষার্থীদের মানসিক শোক মোকাবেলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও ধর্মীয় নেতারা সমর্থন প্রদান করছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনার দিকে নজর দিয়েছেন, কারণ এটি সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধের একটি নতুন মাত্রা প্রকাশ করে। গৃহযুদ্ধের ফলে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ছে, এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আঘাতের হার ক্রমবর্ধমান।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শেলিংয়ের লক্ষ্য যদি সামরিক অবকাঠামো হতো, তবুও বেসামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আঘাতের পরিমাণ নির্দেশ করে যে সংঘাতের নিয়মাবলী ভেঙে গেছে। এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সুদানের সরকার এখনও দ্রুত সহায়তা বাহিনী (দ্রুত সহায়তা বাহিনী)কে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করেনি, তবে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই ঘটনার পর্যালোচনা চাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে শেলিংয়ের পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি সেবা উন্নয়নের দাবি বাড়ছে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক সাহায্যকারী গোষ্ঠী স্থানীয় সরকারকে জরুরি মেডিকেল সেবা ও শেলিং-প্রতিরোধী অবকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষার জন্য দ্রুত সহায়তা বাহিনী (দ্রুত সহায়তা বাহিনী)কে দায়বদ্ধ করা এবং সংঘাতের মূল কারণ সমাধানে রাজনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই শেলিং ঘটনার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে, এবং বহু পরিবার শোক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। স্থানীয় সমাজে পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন, যা এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়নি।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments