22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাবগুড়ার চিলেকোঠা সাহিত্য পরিষদ ৫০তম আড্ডা অনুষ্ঠিত, নতুন রচনা ও সাহিত্যিক মানোন্নয়নের...

বগুড়ার চিলেকোঠা সাহিত্য পরিষদ ৫০তম আড্ডা অনুষ্ঠিত, নতুন রচনা ও সাহিত্যিক মানোন্নয়নের আলোচনা

বগুড়ার সৃজনশীল সাহিত্য সংগঠন চিলেকোঠা সাহিত্য পরিষদ ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে তার ৫০তম আড্ডা আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি শহরের জলেশ্বরীতলায় অবস্থিত অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে কবি, লেখক ও গবেষকদের সমৃদ্ধ উপস্থিতি দেখা যায়।

আড্ডার মূল উদ্দেশ্য ছিল সদস্যদের নতুন রচনা শেয়ার করা এবং সাহিত্যিক মান বজায় রাখার উপায় আলোচনা করা। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সদ্য রচিত কবিতা, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ পাঠ করে একটি প্রাণবন্ত সাহিত্য মিলনমেলায় রূপ নেয়। উপস্থিতি শুধু অভিজ্ঞ লেখক নয়, নবীন স্রষ্টাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে সমাবেশে তাজা সৃষ্টির স্বাদ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।

পাঠচক্রের অংশ হিসেবে প্রতিটি লেখক তার কাজের সংক্ষিপ্ত পটভূমি ব্যাখ্যা করেন, যা শ्रोतাদের রচনার উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে। এই ধরনের সরাসরি উপস্থাপনা নতুন লেখকদের আত্মবিশ্বাস জোগায় এবং তাদের লেখালেখি উন্নত করার জন্য দরকারী প্রতিক্রিয়া প্রদান করে।

আড্ডায় উপস্থিত বক্তারা একমত যে নিয়মিত পাঠচক্র নতুন লেখকদের মানসম্মত সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ করে। তারা উল্লেখ করেন, ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে লেখকরা সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলেন এবং সাহিত্যিক গুণগত মান বজায় রাখতে সক্ষম হন। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে স্থানীয় সাহিত্য পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

চিলেকোঠা সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সভাপতি কবি প্রতীক ওমর এই সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি চিলেকোঠা শুধুমাত্র একটি সংগঠন নয়, বরং একটি সাহিত্যিক সম্প্রদায়ের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে, তা জোর দিয়ে বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংগঠনের দীর্ঘায়ু ও সাফল্য তার সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফল।

অতিথি বক্তারা সাহিত্যকে সমাজের দর্পণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তারা বলেন, সাহিত্যিক কাজ যদি গবেষণাভিত্তিক না হয়, তবে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটতে পারে এবং সমাজের সঠিক চিত্র উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা গবেষণাধর্মী সাহিত্যচর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

কৃষি ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার ও গবেষক মোবিন মাসুদ, কবি‑প্রাবন্ধিক বাপ্পা আজিজুল, সহ-সভাপতি মনজু রহমান, কবি একে আজাদ, প্রকাশনা সম্পাদক হাসান রুহুল, সাধারণ সম্পাদক সেলিম এমরাজ, সহ‑সাধারণ সম্পাদক এনাম আহমেদ, কবি আখতার ইবনে জওহর, কবি সাদিক স্বপনসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। প্রত্যেকের বক্তব্যে সাহিত্যিক মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক স্পষ্ট হয়।

এই ধরনের আড্ডা নবীন লেখকদের জন্য বাস্তবিক উদাহরণ সরবরাহ করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন তরুণ কবি তার প্রথম প্রকাশিত কবিতা পাঠের পর সরাসরি শ্রোতাদের কাছ থেকে গঠনমূলক মন্তব্য পান, যা তাকে পরবর্তী রচনায় শৈলীর উন্নতি করতে সাহায্য করে। এভাবে সমবেত মতামত ও সমর্থন নতুন স্রষ্টাদের লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

শিক্ষা বিভাগের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে আমি লক্ষ্য করেছি, এমন সাহিত্যিক সমাবেশ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদ্যালয় ও কলেজের বাংলা বিভাগগুলো যদি এই ধরনের পাঠচক্রে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করে, তবে শিক্ষার্থীরা তত্ত্বগত জ্ঞানকে বাস্তব রচনায় রূপান্তরিত করতে পারবে।

অবশেষে, পাঠকদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: আপনার নিজস্ব লেখার কাজকে স্থানীয় সাহিত্যিক সমাবেশে উপস্থাপন করার আগে, সমবয়সী ও অভিজ্ঞ লেখকদের কাছ থেকে গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করুন। এই পদ্ধতি আপনার রচনার গুণগত মান বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে প্রকাশনা সুযোগের দরজা খুলে দেবে।

আপনার কি কোনো সাহিত্যিক সমাবেশে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা আছে? অথবা আপনার লেখার উন্নতির জন্য কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে কার্যকরী বলে মনে করেন? মন্তব্যে আপনার মতামত শেয়ার করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments