যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া রাজ্যের লরেন্সকেভিল শহরে একটি পরিবার গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। গুলি চালানো ব্যক্তি 51 বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক বিজয় কুমার, যিনি নিজের স্ত্রী ও তিনজন আত্মীয়কে গুলি করে হত্যা করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত মৃতদের শনাক্ত করে। আটলান্টা অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেটের মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
গুলির স্থান ছিল লরেন্সকেভিলের একটি ব্যক্তিগত বাড়ি। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায় এবং现场েই তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। গুলি চালানো ব্যক্তি বিজয় কুমার, তার স্ত্রী মিনু দোগরা এবং আত্মীয় গৌরব কুমার, নিধি চন্দর, হারিস চন্দরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
বিক্রয়কালে বাড়িতে তিনটি শিশু উপস্থিত ছিল; তাদের বয়স ৭, ১০ এবং ১২ বছর। ১২ বছর বয়সী শিশুটি জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কল করে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি জানায়। কলটি পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, তবে গুলির ফলে শিশুরা কোনো শারীরিক আঘাত পায়নি।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হেফাজতে নেওয়া হয়। গুলির পরপরই পুলিশ পরিবারকে আলাদা করে তদন্তের জন্য গৃহবন্দী করে রাখে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গুলির পেছনে পারিবারিক দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে বিজয় কুমার ও তার স্ত্রীর মধ্যে পূর্বে তর্ক হয়েছিল। তর্কের পর, তারা তাদের ১২ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে অন্য একটি বাড়িতে গিয়ে সেখানে উপস্থিত আত্মীয়দের গুলি করে।
বিক্রয়কালে গুলির লক্ষ্য ছিল স্পষ্টভাবে পরিবারিক সদস্যদের ওপর, তবে গুলির সময় অন্য দুই শিশু উপস্থিত থাকলেও তারা গুলি থেকে রক্ষা পায়। গুলির পরপরই ১২ বছর বয়সী শিশুটি জরুরি সেবা কল করে, যা দ্রুত পুলিশকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের পারিবারিক গুলিবিদ্ধ ঘটনা বিরল, তবে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গুলির সময় ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলির সঠিক কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
বিজয় কুমারের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অপরাধে ফৌজদারি দায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে এবং আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে।
হত্যার শিকারদের পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, ভারতীয় কনস্যুলেটের প্রতিনিধিরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং কনস্যুলেটের মাধ্যমে মৃতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কনস্যুলেটের মতে, মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই কনস্যুলেটের কর্মীরা পরিবারকে সহায়তা প্রদান শুরু করেছে।
পুলিশের মতে, গুলির সময় বাড়ির ভেতরে গুলি চালানোর পদ্ধতি ও গুলির দিক নির্ধারণের জন্য ভিডিও রেকর্ডিং এবং সিআরটি ফিড সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া, গুলির সময় বাড়ির ভেতরে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিবরণও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে যে গুলির পরপরই প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থল সম্পর্কে জানিয়ে দ্রুত সাহায্যের জন্য কল করে। প্রতিবেশীরা গুলির শব্দ শুনে অবিলম্বে জরুরি সেবা নম্বরে কল করে এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত গুলির শিকারদের সহায়তা করার চেষ্টা করে।
এই ঘটনার পর, লরেন্সকেভিল পুলিশ বিভাগ গুলি-সংক্রান্ত অপরাধের প্রতিরোধে সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। তারা পরিবারিক সংঘর্ষের সময় মানসিক সহায়তা ও পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরে, যাতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
সামগ্রিকভাবে, এই গুলিবিদ্ধ ঘটনা পরিবারিক দ্বন্দ্বের ফলস্বরূপ ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা ও আইনি কাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন।



