জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এর নির্বাহী কমিটির সদস্য ওকে গটলিশ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) উল্লেখ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু কর্মকাণ্ডের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি এখন গম্ভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। গটলিশের এই মন্তব্য হ্যামবুর্গের মর্গেনপোস্টের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ পেয়েছে।
গটলিশ ডিএফবির দশজন সহ-সভাপতির একজন এবং একই সঙ্গে বুন্দেসলিগা ক্লাব সেন্ট পাউলির সভাপতি। তিনি ফুটবল সংস্থার নীতি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রাখেন। তার এই অবস্থান থেকে তিনি ট্রাম্পের নীতি-নির্ধারণকে বিশ্বকাপের আয়োজনে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
গটলিশ উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের অলিম্পিক গেমসের বয়কটের পেছনে যে যুক্তি ছিল, তার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল এবং হুমকি বেশি। তিনি বলেন, “যদি আমরা ঐ সময়ের তুলনায় এখন আরও বেশি ঝুঁকি দেখতে পাই, তবে বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা বোধগম্য।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো সংস্থা বা সমাজকে তাদের সীমা নির্ধারণ এবং মূল মূল্যবোধ রক্ষার জন্য স্পষ্ট নীতি গড়ে তুলতে হবে। “যদি কেউ হুমকি দেয়, সীমা লঙ্ঘন করে, অথবা আক্রমণ করে, তবে আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে,” গটলিশ বলেন।
গটলিশের মতে, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো কখন এবং কীভাবে এই সীমা অতিক্রম করেছে তা স্পষ্ট করা দরকার। তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকে সরাসরি উত্তর চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং একই সঙ্গে বারন্ড নয়েনডর্ফ ও জিয়ানি ইনফান্তিনোর কাছ থেকেও স্পষ্টীকরণ চান।
ডিএফবি এখন এই বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে। গটলিশের মন্তব্যের পর ডিএফবির অন্যান্য কর্মকর্তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত বৈঠকে পরিষ্কার হবে।
বিশ্বকাপ ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে, এবং এই ইভেন্টের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলি নজর রাখছে। গটলিশের বয়কটের ইঙ্গিত এই আলোচনার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গটলিশের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ডিএফবির কিছু সদস্যও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা মানবাধিকার বা আন্তর্জাতিক নীতিমালা লঙ্ঘন করেন, তবে ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব হল সেই লঙ্ঘনকে স্বীকার করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সংস্থা ইউএসএফএও গটলিশের মন্তব্যের প্রতি তৎপরতা দেখিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর দেয়নি। তবে তারা উল্লেখ করেছে যে, বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে তাদের দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব অপরিহার্য।
গটলিশের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “সংগঠন এবং সমাজ হিসেবে কীভাবে সীমা ঠিক করে দিতে হয় কিংবা মূল্যবোধ রক্ষা করতে হয় তা আমরা ভুলে যাচ্ছি।” এই কথাটি ডিএফবির নীতি-নির্ধারণে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিএফবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে। গটলিশের বয়কটের ইঙ্গিত এই সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, গটলিশের মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা বলছেন, যদি ডিএফবি সত্যিই বয়কটের দিকে ঝুঁকে যায়, তবে তা ক্রীড়া ও রাজনীতির সংযোগে নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে।
ডিএফবির অভ্যন্তরীণ বৈঠকের ফলাফল এবং গটলিশের প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশিত হবে। ততক্ষণে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতিমালার ওপর দৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।



