৭ জানুয়ারি কারওয়ান বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির গুলি হত্যার শিকার হন। হত্যার পেছনে জবরদস্তি ও আধিপত্যের বিরোধের সূত্র পাওয়া গেছে, যা সম্পর্কে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আজ মিডিয়া সেন্টারে জানিয়েছেন।
মুসাব্বির স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা নর্থ সিটি ইউনিটের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি কজি নাজরুল ইসলাম এভিনিউর একটি গলিতে গুলি হয়ে নিহত হন। তার স্ত্রী পরের দিন তেজগাঁও থানায় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে চার থেকে পাঁচজন অপরিচিত আক্রমণকারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের প্রধান জানান, কারওয়ান বাজারে জবরদস্তি অর্থ সংগ্রহে প্রায় আট থেকে নয়টি সিন্দিকেট সক্রিয়। এই সিন্দিকেটগুলো প্রকাশ্য ও গোপন উভয়ভাবে কাজ করে, যা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।
শফিকুলের মতে, মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ডের আদেশ দিলিপ, যাকে বিনাশ নামেও জানা যায়, দিয়েছেন। আদেশটি জবরদস্তি অর্থের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী দ্রুত কাজ সম্পন্ন করেছে।
১১ জানুয়ারি ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের পুলিশ চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) এবং মো. বিলাল অন্তর্ভুক্ত, যাদের গুলিবিদ্ধের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই গ্রেফতারগুলো তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
পরের দিন নরসিংদি থেকে আরেকজন সন্দেহভাজন রাহিমকে গ্রেফতার করা হয়। রাহিমকে গুলি চালানোর সম্ভাব্য দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে, ফলে মোট গ্রেফতার সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছেছে।
শফিকুল অতিরিক্ত কমিশনার সন্দেহভাজনদের রাজনৈতিক কর্মী নয়, বরং জবরদস্তিকর হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জবরদস্তিকরদের কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই এবং তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক চিহ্নের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের অভিযান দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জানানো হয়েছে যে, জবরদস্তি সংক্রান্ত অপরাধের ওপর বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিন্দিকেটগুলোকে ভেঙে ফেলতে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হিংসা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জবরদস্তি সংক্রান্ত অপরাধের শিকড় খুঁজে বের করে তা নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। মামলার আইনি প্রক্রিয়া শীঘ্রই আদালতে উপস্থাপন হবে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



