বরিশাল শহরের দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকায় শুক্রবার রাত ২টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। আগুনের সূত্রপাত নুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি খাবার হোটেলে হয় এবং দ্রুত আশেপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কোনো প্রাণহানি রেকর্ড করা যায়নি, তবে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক সূত্র অনুসারে, হোটেলের রান্নাঘরে অগ্নি লেগে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সোহান ও শহিদের দুটি খাবার হোটেল, মাইনুল ও সাইদুলের দুটি চায়ের দোকান, ইসমাইলের ফটোকপি দোকান, মাসুদের মুদি দোকান এবং আসলামের দধি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। পাশাপাশি একটি পাখির খাবার বিক্রির দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বেশিরভাগ দোকানদার পিকনিকে ছিলেন এবং তাই ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। তবে তারা উল্লেখ করেন, আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার পরিমাণ দেখে ক্ষতি কয়েক লক্ষ টাকার বেশি হতে পারে।
আগুনের দৃশ্য দেখার পর আশেপাশের বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা সময়ে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও আগুনের বিস্তার দ্রুত ঘটায়, তবু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত কাজ করে কোনো প্রাণহানি রোধ করতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, আগুনের সূত্রপাতের সঠিক কারণ এবং ক্ষতির মোট পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে, ফলে নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয়ের জন্য ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো সন্দেহভাজন বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তের অংশ হিসেবে হোটেলের গ্যাস সংযোগ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং রান্নার পদ্ধতি পরীক্ষা করা হবে।
আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দারা অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অগ্নি নিয়ন্ত্রণের পর ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য অস্থায়ী শেল্টার ব্যবস্থা করে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্থানীয় সরকার থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা বা পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য শীঘ্রই জানানো হবে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে। বহু গ্রাহক ও কর্মী এই সময়ে বিকল্প স্থানে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং পুনর্নির্মাণের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এতে অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার, গ্যাস লিক চেক এবং জরুরি যোগাযোগ নম্বরের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা সত্ত্বেও কোনো প্রাণহানি না ঘটায় তা একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা যায়। তবে সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত সাতটি দোকান এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত একটি দোকান স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশে বড় ধাক্কা সৃষ্টি করেছে। তদন্ত চলাকালে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।



