20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবায়েজিদে এক কসাইকে নারী ও দুই সহচর হত্যা, দেহ ছয় ভাগে ভাগ...

বায়েজিদে এক কসাইকে নারী ও দুই সহচর হত্যা, দেহ ছয় ভাগে ভাগ করে খাল‑ভাগারে ফেলা

চট্টগ্রামের বায়েজিদে রাউজান জেলার বাসিন্দা মো. আনিসের (বয়স ৩২) দেহের ছয়টি টুকরা খাল ও ভাগারে পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এক নারী আনিসকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রথমে মাথায় পাথর নিক্ষেপ করে আঘাত করেন, এরপর দুইজনের সাহায্যে দেহকে ছয় ভাগে কেটে ফেলে। দেহের অংশগুলো পলিথিনে মোড়িয়ে আশেপাশের খাল ও গর্তে ফেলা হয়।

পুলিশের মতে, অপরাধের সময় আনিসের বাড়ি নগরের অক্সিজেন শহীদনগর এলাকায় অবস্থিত ছিল। নারী, তার ভাই এবং আরেকজন যুবক একসাথে কাজ করে দেহকে কেটে ফেলা এবং পরে তা পুনরায় সংগ্রহ করে সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। দেহের হাত ও পা আলাদা করে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দা সন্ধ্যায় দেখেন এবং তৎক্ষণাৎ থানায় জানিয়ে দেন।

থানার কর্মকর্তারা পলিথিনে মোড়ানো হাত ও পা উদ্ধার করে, আঙুলের ছাপের মাধ্যমে দেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরপর মোবাইল কললিস্টের বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের মধ্যে রয়েছে নারী, তার ভাই এবং আরেকজন যুবক, যাদের বিরুদ্ধে হত্যা, দেহভঙ্গ এবং দেহাংশ ফেলা ইত্যাদি অভিযোগ আনা হয়েছে।

মৃতদেহের সম্পূর্ণ অংশ, যার মধ্যে মাথা ও বাকি দেহের অংশও অন্তর্ভুক্ত, গ্রেফতারের সময়ই উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দেহের অংশগুলোকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় খাল ও ভাগারে ফেলা হয়েছিল, যা স্থানীয় মানুষদের নজরে আসে এবং দ্রুত তদন্তের সূচনা হয়।

অভিযুক্ত নারীর পরিবার দাবি করে যে, আনিসের ওপর দুই লাখ টাকা ঋণ রয়েছে এবং এই অর্থের দাবির ফলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে, মৃতের আত্মীয়রা নারীর এই দাবি অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে, হত্যার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা উভয় দিকের তথ্য সংগ্রহ করে সত্য নির্ণয়ের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বায়েজিদ থানার উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির বিশদ বিবরণ দেন। তিনি জানান, গ্রেফতারের পর দেহের অংশগুলো পুনরুদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, মৃতের ফোন নম্বরের কললিস্টে সন্দেহভাজন নারীর নাম দেখা গিয়েছে, যা গ্রেফতারের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা গতকাল রাতে দায়ের করা হয়েছে এবং আগামীকাল (শনিবার) আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে প্রমাণ-প্রসঙ্গ উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে ফরেনসিক রিপোর্ট, আঙুলের ছাপের রেকর্ড এবং ফোন কলের রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আদালত থেকে প্রাথমিক রায়ের পরে মামলাটি পরবর্তী পর্যায়ে অগ্রসর হবে।

পুলিশের মতে, এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধে দেহভঙ্গের মাধ্যমে দেহকে গোপন করার প্রচেষ্টা দেখা যায়, তবে দ্রুত সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার ঘটনার মাধ্যমে তদন্তের গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এই ঘটনার শোক প্রকাশ করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে।

বায়েজিদে এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে শক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে কসাই পেশার মানুষদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ এখনো অন্যান্য সম্ভাব্য সহায়ক বা জড়িত ব্যক্তিদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্প্রদায়কে সতর্কতা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে।

অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত হবে। মামলার চূড়ান্ত রায়ের জন্য আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে, আর মৃতের আত্মীয়দের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments