মার্কিন ট্রেজারির সচিব স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার আলবার্টা প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করে প্রদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বাভাবিক অংশীদার বলে উল্লেখ করেন। তিনি আলবার্টার সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্যাসিফিক মহাসাগরে পাইপলাইন নির্মাণের বাধা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বেসেন্টের এই মন্তব্য কানাডিয়ান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হয়েছে।
বেসেন্টের মতে, আলবার্টার তেল ও গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে আলবার্টার জনগণ স্বতন্ত্র মানসিকতা সম্পন্ন, ফলে তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা দরকার। এছাড়া, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সরাসরি রপ্তানি সহজতর করার জন্য পাইপলাইন প্রকল্পকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই মন্তব্যের সময় কানাডিয়ান সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মুখে। আলবার্টা প্রদেশে স্বাধীনতা রেফারেন্ডের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলমান, যেখানে প্রদেশের নাগরিকদের ১০% ভোটার সমর্থন প্রয়োজন। সরকারকে মে মাসের মধ্যে কমপক্ষে ১,৭৮,০০০ স্বাক্ষর সংগ্রহের শেষ সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে।
বেসেন্ট রক্ষণশীল হোস্ট জ্যাক পোসোবিয়েকের সঙ্গে কথোপকথনে রেফারেন্ডের সম্ভাবনা নিয়ে গুজবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়েছেন যে আলবার্টা কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে পারে এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই ধরনের গুজবের উপস্থিতি প্রদেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
কানাডিয়ান সরকারের আর্থিক মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বেসেন্টের মন্তব্যের প্রতি তীব্র প্রত্যাখ্যান জানান। তিনি জানান যে কানাডা নিজের সম্পদ নিজস্বভাবে উন্নয়ন করবে এবং মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ‘ধন্যবাদ, তবে না’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। শ্যাম্পেনের এই বক্তব্য দেশীয় স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতির প্রতি দৃঢ়তা প্রকাশ করে।
শ্রী শ্যাম্পেন একই সঙ্গে উল্লেখ করেন যে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আলবার্টার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যা প্যাসিফিক মহাসাগরে তেল পাইপলাইন নির্মাণের পথ খুলে দেয়। এই প্রকল্পটি কানাডার তেল হৃদয় অঞ্চল থেকে পণ্য রপ্তানির দীর্ঘদিনের লক্ষ্য, তবে এটি এখনও বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন।
আলবার্টা প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথের মুখপাত্র বিবিসি-কে জানান যে প্রদেশ নতুন পাইপলাইন প্রকল্পকে সমর্থন করে, তা পশ্চিম, পূর্ব, উত্তর বা দক্ষিণ যেই দিকেই হোক না কেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে পাইপলাইন ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। স্মিথের এই বক্তব্য আলবার্টার অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার ইঙ্গিত দেয়।
প্রিমিয়ার স্মিথ আরও উল্লেখ করেন যে অধিকাংশ আলবার্টান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজ্য হওয়ার ধারণায় আগ্রহী নয়। তিনি বলেন, প্রদেশের স্বতন্ত্র পরিচয় ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছা। এই অবস্থান বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর দাবি ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির মধ্যে পার্থক্যকে তুলে ধরে।
বছরের শেষের দিকে কানাডিয়ান সরকার একটি পিটিশন চালু করে, যেখানে ৪,৩০,০০০ের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করে একটি ঐক্যবদ্ধ কানাডা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। জরিপে দেখা যায় যে অধিকাংশ আলবার্টান এখনও কানাডার অংশ হিসেবে থাকতে চান। এই তথ্যগুলো বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বাস্তব সমর্থন সীমিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
আলবার্টা রেফারেন্ডের স্বাক্ষর সংগ্রহের শেষ তারিখ নিকটবর্তী হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। যদি প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ করা যায়, তবে রেফারেন্ডের ফলাফল কানাডিয়ান সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। সরকারী ও বিরোধী দল উভয়ই পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন ট্রেজারির এই মন্তব্য এবং কানাডিয়ান সরকারের প্রতিক্রিয়া উভয়ই আলবার্টার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে গঠিত আলোচনার অংশ। উভয় দেশের নীতি নির্ধারকরা এখন সম্পদ রপ্তানি, পাইপলাইন নিরাপত্তা এবং প্রদেশের রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে সমন্বিত কৌশল গড়ে তুলতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় রেফারেন্ডের ফলাফল, স্বাক্ষর সংগ্রহের অগ্রগতি এবং জনমত জরিপের দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



