22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপির নগদ সহায়তা পরিকল্পনা ও জামায়াত-এ-ইসলামির সামাজিক নিরাপত্তা প্রস্তাব

বিএনপির নগদ সহায়তা পরিকল্পনা ও জামায়াত-এ-ইসলামির সামাজিক নিরাপত্তা প্রস্তাব

বাংলাদেশের ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো আবারো গৃহস্থালীর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সরকারী সমীক্ষা অনুযায়ী ২০২২ সালে গড় গৃহস্থালী ব্যয় মাসে ৩১,৫০০ টাকা, যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নগর এলাকায় এই গড় ৪১,৪২৪ টাকায় পৌঁছায়, আর গ্রামীণ গৃহস্থালীর ব্যয় প্রায় ২৬,৮৪২ টাকা।

এই তথ্যগুলো দেখায় যে পরিবারগুলো একটি নীরব “ভোগের ফাঁদে” আটকে আছে, যেখানে ব্যয় বাড়লেও সঞ্চয় কমে যাচ্ছে। চলমান মুদ্রাস্ফীতি বিশেষ করে নিম্ন আয়ের গৃহস্থালীর সঞ্চয়কে শূন্যে নামিয়ে দিয়েছে, ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ আর্থিকভাবে অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে আছে।

বিএনপি এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় “সামাজিক নীতি এজেন্ডা” উপস্থাপন করেছে, যার মধ্যে “ফ্যামিলি কার্ড” নামে একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যা প্রচলিত বিতরণ চ্যানেলগুলোর লিকেজ কমিয়ে সরাসরি গৃহস্থালীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে।

অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামি, যা বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, “স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড” এবং “কর্দ-এ-হাসানা” স্কিম প্রস্তাব করেছে। এই স্কিমের অধীনে পাঁচ লক্ষ বেকার স্নাতককে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে, যা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত চলবে।

বিএনপির পরিকল্পনায় ৫০ লক্ষ নারীকে মাসিক ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। নগর গৃহস্থালীর গড় ব্যয়ের প্রায় ৬ শতাংশ এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য প্রায় ৯ শতাংশ এই পরিমাণ গঠন করবে।

অর্থনীতিবিদরা এই প্রস্তাবের আর্থিক এবং কার্যকরী বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, এত বড় স্কেলে নগদ স্থানান্তর করতে যথেষ্ট বাজেটের ঘাটতি এবং তদুপরি মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রাক্তন প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হুসেইন বলেন, নগদ সহায়তার মূল লক্ষ্য হল মৌলিক বেঁচে থাকা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের সহায়তা মানুষের জীবনের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে এবং সংকট থেকে রক্ষা করবে।

হুসেইন আরও জানান, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কল্যাণ কার্ডের প্রচলন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অভাব দেখায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নীতিনির্ধারকদের প্রথমে দরিদ্রতার ফাঁক পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক আর্থিক পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে।

যে কোনো সরকার এই ধরনের নগদ স্থানান্তর বাস্তবায়ন করতে চাইলে প্রথমে বাজেটের অতিরিক্ত স্থান সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে, যাতে মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত না হয়। তদুপরি, তহবিলের সঠিক লক্ষ্যভিত্তিক বিতরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বিএনপির “ফ্যামিলি কার্ড” এবং জামায়াত-এ-ইসলামির “স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড” উভয়ই বিতরণ চ্যানেলের লিকেজ কমিয়ে সরাসরি দরিদ্র গৃহস্থালীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে, তবে তাদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও আর্থিক কাঠামো ভিন্ন।

নগর ও গ্রামীণ গৃহস্থালীর ব্যয় পার্থক্য বিবেচনা করে, নগদ সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণে অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। অন্যথায়, একই পরিমাণ নগদ নগর গৃহস্থালীর জন্য কম প্রভাব ফেলতে পারে, আর গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য বেশি প্রভাবশালী হতে পারে।

পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে, নতুন সরকারকে এই ধরনের সামাজিক সহায়তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে যথাযথ নীতি নির্ধারণ করতে হবে। আর্থিক ঘাটতি পূরণে কর সংগ্রহ, ঋণ গ্রহণ বা বাজেট পুনর্বিন্যাসের মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশে নগদ সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্ডের প্রস্তাবগুলো গৃহস্থালী আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যে তৈরি, তবে তাদের বাস্তবায়ন আর্থিক সক্ষমতা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং তহবিলের সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করার ওপর নির্ভরশীল।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments