দশ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে তিস্তা সহ উত্তরের মৃত নদীগুলোর পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দিলেন জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান। তিনি গাইবান্ধা পলাশবাড়িতে শনিবার সকালে এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় এ কথা জানিয়ে আশ্বাস দিলেন যে, “মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে আপনাদেরকে আমরা কথা দিচ্ছি—উত্তরবঙ্গের মানুষের নয় শুধু, বাংলাদেশের আপামর জনতার ভালোবাসা দোয়া সমর্থন এবং ভোট নিয়ে আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি; তাহলে নর্থ বেঙ্গলে প্রথমে আমাদের দৃষ্টি পড়বে মরা নদীগুলোর উপর।”
শফিকুরের মতে, “নদীর জীবন ফিরে আসলে নর্থ বেঙ্গলের জীবন ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।” তিনি উল্লেখ করেন যে, গাইবান্ধার বাসিন্দাদের কাছে নদীগুলোকে আল্লাহ তায়ালার দান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে গত ৫৪ বছর ধরে সরকারগুলো এই দান সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। “এক সময় যে নদী দিয়ে জাহাজ চলত, এই নদী দিয়ে এখন সাধারণ নৌকা চলাচল করতে পারে না,” তিনি বলেন।
শফিকুরের বর্ণনা অনুযায়ী, গতকাল ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পথে গাড়ি চালিয়ে তিনি নদীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চোখের কোণে অশ্রু জমে যাওয়া অনুভব করেন। “নদীর পানি উবে গিয়ে নদীগুলো এখন মরুভূমি কঙ্কাল হয়ে পড়ে আছে,” তিনি মন্তব্য করেন, যা স্থানীয় কৃষকদের জীবিকাকে প্রভাবিত করছে।
তিনি চারটি প্রধান নদী—তিস্তা, ধরলা, করতোয়া এবং ব্রহ্মপুত্র—কে আল্লাহর দান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সবগুলো নদীর একই অবস্থা।” শফিকুরের তুলনা অনুযায়ী, নদীর অবস্থা শরীরের রক্তনালীর মতো; রক্ত সঞ্চালন না হলে অঙ্গের মৃত্যু ঘটে, তেমনি নদী বন্ধ হলে অঞ্চলের জীবনধারা থেমে যায়।
শফিকুরের লক্ষ্য হল নর্থ বেঙ্গলকে কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে রূপান্তর করা। তিনি বলেন, “এখানকার মানুষ আসমানের আপেল খাওয়ার জন্য কারো কাছে দাবি জানায়নি। সহজ-সরল জীবনযাপন, অল্পে তুষ্ট, কঠোর পরিশ্রমী।” তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাটির উর্বরতা হ্রাস পেয়েছে, যা মূলত তাজা পানির অভাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এখন মাঠে আগের মত ফসল ফলে না, সার দিতে দিতে জমির জান শেষ। এর মূল কারণ হচ্ছে ওই যে মিঠা পানির পরশ থেকে স্পর্শ থেকে আমাদের মাটি, আমাদের জমি বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।” এ কারণে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেয়েছে এবং আয় কমে গেছে।
শফিকুরের মতে, তিস্তা নদীর পুনরুজ্জীবনকে কেন্দ্র করে একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গৃহীত হবে। “তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি নদীগুলোকে জীবন দেওয়ার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ,” তিনি বলেন, এবং উল্লেখ করেন যে, সরকার গঠন হলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো ভয় প্রকাশ না করে আল্লাহর ভয়ে আস্থা প্রকাশ করেন। “আমরা কারো লাল চক্ষুকে ভয় করি না ভাই। আমরা ভয় করি শুধু আল্লাহ,” শফিকুরের এই বক্তব্য তার রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে তুলে ধরে।
দশ দলীয় জোটের মধ্যে অন্যান্য দলগুলোর অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়, তবে শফিকুরের এই প্রতিশ্রুতি সরকার গঠনের পর নর্থ বেঙ্গলের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদি জোট সরকার গঠন করে, তবে নদী পুনরুজ্জীবন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে অনুমান করা যায়।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নদীর পুনরুদ্ধার কেবল পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। শফিকুরের এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেতে পারে, বিশেষ করে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে।
শফিকুরের বক্তব্যের পর জনসভার উপস্থিতি তীব্রভাবে সাড়া দিয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা তার পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে সমর্থন জানিয়ে, সরকার গঠনের পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
অবশেষে, শফিকুরের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পুনরুজ্জীবনকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত নীতি গঠন করা হবে, যা নর্থ বেঙ্গলের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধার এবং কৃষকদের জীবিকা উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



