গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলা রাত্রিকালীন সমাবেশে জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন, যদি তার দশদলীয় জোট সরকার গঠন করে, উত্তরবঙ্গকে সম্পূর্ণ কৃষি‑নির্ভর রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। তিনি উপস্থিত জনগণকে জানান, এই প্রতিশ্রুতি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের জীবনমান উন্নত করবে।
শফিকুর রহমান অতীতের ৫৪ বছর ধরে শাসনকারী সরকারগুলোকে সমালোচনা করে, তারা নদী সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নদীগুলো ঈশ্বরের দান, তবে ধারাবাহিক অবহেলার ফলে সেগুলো এখন শূন্য হয়ে গেছে।
প্রাক্তন সময়ে এই নদীগুলোতে বড় জাহাজ চলত, কিন্তু আজ ছোট নৌকাও সাঁতার কাটতে পারে না; পানির স্তর হ্রাসের ফলে নদীগুলো মরুভূমির হাড়ের মতো শূন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শফিকুর বলেন, তিস্তা, ধারলা, ব্রহ্মপুত্র ও কারতোয়া এই চারটি প্রধান নদী উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একধরনের আশীর্বাদ।
তিনি নদীকে মানবদেহের রক্তনালীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, রক্ত প্রবাহিত না হলে দেহের কোনো অংশ কাজ করে না; তেমনি নদী বন্ধ হয়ে গেলে মাটি শুষ্ক হয়, কৃষি উৎপাদন হ্রাস পায় এবং মানুষের জীবিকার দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
শফিকুরের মতে, যদি জোট শাসনে আসে, নদী পুনরুদ্ধারের কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি টেস্তা মাস্টার প্ল্যানের পাশাপাশি একটি বিস্তৃত নদী পুনর্জীবন পরিকল্পনা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানো যায়।
সমাবেশে উপস্থিত ভোটারদের তিনি আসন্ন রেফারেন্ডামে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানান, যা তার জোটের ক্ষমতা অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। এই রেফারেন্ডামটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।
দিনের শুরুর দিকে শফিকুর রহমান রংপুরের পিরগঞ্জে অবস্থিত আবু সায়েদের সমাধিতে গিয়ে প্রার্থনা করেন, যা জোটের দুই দিনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। এই সফরটি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়।
পলাশবাড়ি সমাবেশ প্রায় ১০:৩০ টায় শুরু হওয়ার পর, শফিকুর দুপুরে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে আরেকটি জনসমাবেশে অংশগ্রহণের সময়সূচি প্রকাশ করেন। এই ধারাবাহিক র্যালি এবং জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি জোটের নির্বাচনী পরিকল্পনা ও নীতি সমূহকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চান।



