ইউএস পেন্টাগন শুক্রবার প্রকাশিত ৩৪ পৃষ্ঠার নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে চীনকে আর শীর্ষ নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি। কৌশলটি যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া নিরাপত্তা ও পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
কৌশলটি উল্লেখ করেছে যে মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকানদের ‘কংক্রিট স্বার্থ’ উপেক্ষা করেছে এবং এখন তা পুনরায় নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দেবে। এদিকে ইউএস পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য সমর্থনকে ‘সীমিত’ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই পরিবর্তনটি গত বছর প্রকাশিত মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের ধারাবাহিকতা, যেখানে ইউরোপকে ‘সিভিলাইজেশনাল ধসে পড়া’ ঝুঁকির মুখে বলা হয়েছিল এবং রাশিয়াকে সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। মস্কো তখন কৌশলটি তার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ‘বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছিল।
এর বিপরীতে ২০২২ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে চীনকে ‘মাল্টি-ডোমেইন হুমকি’ হিসেবে শীর্ষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালের সংস্করণে চীন ও রাশিয়াকে ‘রিভিশনিস্ট শক্তি’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ‘কেন্দ্রীয় চ্যালেঞ্জ’ বলা হয়েছিল।
নতুন কৌশলটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম বছরের নীতি পুনরায় জোরদার করেছে। তার শাসনামলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ানে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকা আক্রমণ এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ দেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
কৌশলটি ইউএস পেন্টাগনকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডে, বিশেষ করে পানামা খাল, গাল্ফ অব আমেরিকা এবং গ্রিনল্যান্ডে নিশ্চিত করার দায়িত্ব দিয়েছে। এই এলাকাগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পদ্ধতি পূর্বের শীতল যুদ্ধ পরবর্তী কৌশলগুলোর তুলনায় ‘মৌলিকভাবে ভিন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৌশলটি আদর্শবাদী স্বপ্নকে বাদ দিয়ে ‘কঠোর বাস্তববাদ’কে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘শক্তি ভিত্তিক’ পদ্ধতিতে পরিচালনা করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেখানে মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিবর্তে ক্ষমতা প্রদর্শনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৌশলটি স্পষ্ট করে বলেছে যে লক্ষ্য চীনকে আধিপত্য করা বা তাকে ‘গিল্টি’ বা ‘হুমকির’ অবস্থায় নামিয়ে আনা নয়।
পূর্বের সংস্করণগুলোর তুলনায় তাইওয়ানের উল্লেখ কমে এসেছে; স্বশাসিত দ্বীপটি এখন কৌশলের কেন্দ্রীয় বিষয় নয়। এই পরিবর্তনটি এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মনোযোগের পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে ইউএস পেন্টাগনের এই অগ্রাধিকার পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদকে ঘরোয়া নিরাপত্তা ও পশ্চিম গোলার্ধের সুরক্ষায় পুনর্বিন্যাস করবে, যা মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। চীনও এই পরিবর্তনকে তার কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলে পুনর্মূল্যায়নের সংকেত হিসেবে নিতে পারে।
কৌশলটি উল্লেখ করেছে যে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, বিশেষ করে পানামা খাল ও গ্রিনল্যান্ডের মতো কৌশলগত স্থানগুলোতে। এই পদক্ষেপগুলো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলটি চীনের হুমকিকে হ্রাস করে যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ও পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ‘বাস্তববাদী’ নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।



