অ্যাপল iPhone ২০২৫ সালে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ইউনিট বিক্রি করে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে শেয়ার ৯% পৌঁছায়, যা পূর্ববছরের ৭% থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই ফলাফল দেশীয় উৎপাদন ও বিক্রয় চ্যানেলের সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট স্মার্টফোন বিক্রয় প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৩ মিলিয়ন ইউনিটে স্থিতিশীল রয়ে যায়। ফলে বাজারের সামগ্রিক আয়তন বড় পরিবর্তন না দেখলেও, অ্যাপলের শিপমেন্টে উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটেছে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ডেটা প্রকাশ করে যে, অ্যাপলের শিপমেন্ট শেয়ার ২০২৪ সালের ৭% থেকে বেড়ে রেকর্ড ৯% হয়েছে। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজারে iPhone-এর সর্বোচ্চ শেয়ার হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
কাউন্টারপয়েন্টের ডিভাইস ও ইকোসিস্টেমের পরিচালক তরণ পথক উল্লেখ করেন, iPhone-এর পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য, উচ্চাকাঙ্ক্ষী গ্রাহকের চাহিদা এবং বিক্রয় চ্যানেলের বিস্তৃত উপস্থিতি এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
অ্যাপল সিইও টিম কুকের মতে, কোম্পানি অক্টোবর মাসের আয় কলের সময় ভারতের সর্বোচ্চ আয় রেকর্ড করেছে। এই মন্তব্যটি অ্যাপলের ভারতীয় বাজারে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলকে শক্তিশালী করে।
অ্যাপলের সিএফও কেভান পারেখও উল্লেখ করেন যে, iPhone-এর সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা দেশে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে এবং আপগ্রেডারদের সংখ্যায় ত্রৈমাসিক রেকর্ড গড়ে উঠেছে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য অ্যাপল ভারতের উৎপাদন সুবিধা সম্প্রসারণে অগ্রসর হয়েছে। দেশীয় সমাবেশ ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী হবে এবং মূল্য প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাবেন।
বিক্রয় নেটওয়ার্কের দিকেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; সম্প্রতি নোইডায় প্রথম অ্যাপল স্টোরের উদ্বোধনের মাধ্যমে মোট পাঁচটি স্টোর চালু হয়েছে। এই রিটেল সম্প্রসারণ ২০২৩ সালে শুরু হওয়া পরিকল্পনার অংশ।
সেবার দিকেও অ্যাপল নতুন পণ্য চালু করেছে। “Apple Creator Studio” নামে একটি সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজে ফাইনাল কাট প্রো ও লজিক প্রো সহ সৃজনশীল অ্যাপগুলো অন্তর্ভুক্ত, যা মাসে মাত্র ₹৩৯৯-এ উপলব্ধ।
এই মূল্য নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের $১২.৯৯ মাসিক মূল্যের তুলনায় প্রায় ৬৬% কম, যা ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী করে তুলেছে এবং সেবার গ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্দেশ করে।
iPhone-এর এই শক্তিশালী বছরটি এমন একটি বাজারে ঘটেছে যেখানে সামগ্রিক স্মার্টফোন বিক্রয় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভারতের স্মার্টফোন বাজার চার বছর ধারাবাহিকভাবে সমতল হয়েছে।
বাজারের স্থবিরতা সত্ত্বেও, অ্যাপলের স্থানীয় উৎপাদন, রিটেল নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং সেবা মূল্যের সমন্বয় ভবিষ্যতে শেয়ার বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রতিযোগিতামূলক দামের স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের চাপ ও মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি বজায় থাকবে।
সারসংক্ষেপে, অ্যাপল iPhone ২০২৫ সালে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে রেকর্ড শেয়ার অর্জন করেছে, যা কোম্পানির কৌশলগত বিনিয়োগ ও সেবা মূল্যায়নের ফল। ভবিষ্যতে শেয়ার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বাজারের সামগ্রিক স্থবিরতা ও প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে।



