28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিপিএল ১২-এ মালিকানা ত্যাগ, কোচের মৃত্যু ও শোকের ফলে শিডিউল বদল

বিপিএল ১২-এ মালিকানা ত্যাগ, কোচের মৃত্যু ও শোকের ফলে শিডিউল বদল

বাংলাদেশের টি২০ লীগ বিপিএল ১২-এ ডিসেম্বরের শেষের দিকে ধারাবাহিক অস্থিরতা দেখা দেয়। সিলেটে শুরু হওয়া প্রথম ম্যাচের আগে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা আর্থিক সমস্যার কারণে ত্যাগ করে, ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সরাসরি দলটি পরিচালনা করতে হয়। একই সময়ে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের কোচিং স্টাফ অল্প সময়ের জন্য ম্যানেজমেন্টের অভিযোগে পদত্যাগের হুমকি জানায়।

চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা ত্যাগের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দলটির দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তৎক্ষণাৎ নতুন ব্যবস্থাপনা গঠন করে। তবে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের কোচিং স্টাফের অস্থায়ী পদত্যাগ দলীয় প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটায়, যা দ্রুত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রশিক্ষণ সেশন স্থগিত থাকে।

ডিসেম্বর ২৭ তারিখে ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলি জাকি দলীয় ওয়ার্ম‑আপের সময় আকস্মিকভাবে মারা যান। তার মৃত্যু দলীয় মনোবলে গভীর প্রভাব ফেলে এবং ম্যাচের সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়।

ডিসেম্বর ৩০ তারিখে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘোষিত হওয়ায় দেশব্যাপী শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। এই শোকের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সিলেটের পরবর্তী চট্টগ্রাম পর্যায়ের সব ম্যাচ স্থগিত করে এবং সংশ্লিষ্ট ফিক্সচারগুলো পুনর্গঠন করে।

শিডিউল পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া রাজনীতির নতুন উত্তেজনা দেখা দেয়। জানুয়ারি ৩ তারিখে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের মুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসি-তে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়।

সরকারি ও বোর্ডের আপত্তি আইসিসি-তে পৌঁছানোর পর টিমের আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়। এই বিষয়টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

জনুয়ারি ১৫ তারিখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাজমুল ইসলাম খেলোয়াড়দের বেতন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা পুরো লীগে খেলোয়াড়দের সমবেত বয়কটের দিকে নিয়ে যায়। বয়কটের ফলে ম্যাচের সময়সূচি আবারই ব্যাহত হয়।

বয়কট সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাজমুল ইসলামকে আর্থিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এবং তার পরিবর্তে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তি ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের পর খেলোয়াড়রা আবার মাঠে ফিরে আসে এবং শিডিউল পুনরায় নির্ধারিত হয়, যা ঢাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত।

বিপিএল ১২ চলাকালীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যান্টি‑করাপশন ইউনিট টুর্নামেন্টের প্রতিটি ধাপে কঠোর স্ক্রিনিং চালিয়ে যায়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল লিগের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, বিশেষত পূর্বের স্ক্যান্ডালগুলোকে পুনরায় না ঘটতে দেওয়া।

লিগের শেষ পর্যায়ে ঢাকায় নির্ধারিত ম্যাচগুলোতে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হয়। খেলোয়াড়, কোচ ও স্টাফদের জন্য স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা প্রোটোকলও পুনর্বিবেচনা করা হয়।

বিপিএল ১২-এ ধারাবাহিক শিডিউল পরিবর্তন, কোচের মৃত্যু, রাজনৈতিক শোক এবং আন্তর্জাতিক বিতর্কের পরেও লীগটি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে আরও স্থিতিশীল পরিচালনা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments