শুক্রবার রাতের পরেই শনিবারের শুরুর দিকে, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ আবু সাঈদের সমাধি পরিদর্শন করেন। কবর জিয়ারতের পর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য পার্টির দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, দেশের এক ইঞ্চি জমির মর্যাদা কোনো বাহ্যিক শক্তির কাছে বন্ধক রাখা যাবে না এবং আবু সাঈদের মতো আত্মত্যাগী শহীদের উদাহরণে তারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ত্যাগ স্বীকার করা মানে অন্যায়ের সামনে মাথা নত করা নয়।
শহীদ আবু সাঈদের হত্যাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করার পাশাপাশি, ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে শহীদের আত্মা দেশের নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসনের রক্ষায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, শহীদের জীবন দেশের জন্য একটি অমূল্য আমানত, যা পার্টি সর্বদা রক্ষা করবে।
কঠিন রাজনৈতিক সংকটের মাঝেও জামায়াত-এ-ইসলামি তার সমর্থকদের ত্যাগ করে না, পালায় না, এমনটি ডা. শফিকুর রহমান পুনরায় নিশ্চিত করেন। তিনি ভবিষ্যতে কোনো পরিস্থিতি হোক না কেন, পার্টি তার ভিত্তিক জনগণের পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে, ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী সফর শুরু হয়। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সকাল ১০টায় প্রথম সমাবেশের সূচনা হয়, যেখানে তিনি পার্টির মূল নীতি ও শহীদের ত্যাগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরপর বগুড়া শহরে দুপুর ১২টায় একটি জনসভায় উপস্থিত হয়ে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, এরপর বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বিকেল ২ঃ৩০ মিনিটে সমাবেশে অংশ নেন। একই দিন বিকাল ৩ঃ৩০ টায় সিরাজগঞ্জ শহরে আরেকটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বিকেল ৪টায় আরেকটি সমাবেশের পর, ডা. শফিকুর রহমান পাবনা জেলায় সন্ধ্যা ৬ঃ৩০ টায় নির্ধারিত সমাবেশে উপস্থিত হন। এই সমাবেশে তিনি জামায়াত-এ-ইসলামির জোটভুক্ত প্রার্থীদের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন এবং নির্বাচনী প্রচারণা সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
সিরাজগঞ্জ ও পাবনা সমাবেশ শেষ করার পর, ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি ঢাকা ফিরে আসার পরিকল্পনা করেন, যা জামায়াত-এ-ইসলামির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে। তার এই সফর এক দিনের মধ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা পার্টির বিস্তৃত ভোটার ভিত্তি জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বহুমুখী সফর এবং শহীদ আবু সাঈদের প্রতি সম্মানসূচক বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। শহীদের ত্যাগকে রাজনৈতিক মঞ্চে তুলে ধরে তিনি পার্টির ন্যায়বিচার ও স্বার্থ রক্ষার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



