টিকটকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত যৌথ উদ্যোগের গোপনীয়তা নীতিতে পরিবর্তন আনার পর, অ্যাপের ব্যবহারকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ইন-অ্যাপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নীতির নতুন ধারা জানানো হয়, যেখানে অবস্থানসহ সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা উল্লেখ আছে। ব্যবহারকারীরা এই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে বিস্তৃত আলোচনা শুরু করেছে।
নতুন নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে টিকটক ব্যবহারকারীর কন্টেন্ট, জরিপের উত্তর বা অন্যান্য ইন্টারঅ্যাকশন থেকে “জাতিগত বা জাতীয় উত্স, ধর্মীয় বিশ্বাস, মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্যের নির্ণয়, যৌন জীবন বা যৌন অভিমুখিতা, ট্রান্সজেন্ডার বা ননবাইনারি পরিচয়, নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্থিতি, আর্থিক তথ্য” ইত্যাদি সংগ্রহ করতে পারে। এই ধারা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে টিকটকের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে এই ধারা নতুন নয়; একই শব্দগুচ্ছ পূর্বে, কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে থেকেই নীতিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। মূল উদ্দেশ্য হল ক্যালিফোর্নিয়ার কনজিউমার প্রাইভেসি অ্যাক্ট (CCPA) সহ অন্যান্য রাজ্যভিত্তিক গোপনীয়তা আইন মেনে চলা।
CCPA অনুসারে, কোম্পানিগুলোকে স্পষ্টভাবে জানাতে হয় যে তারা কোন ধরনের “সংবেদনশীল তথ্য” সংগ্রহ করে। তাই টিকটকসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তাদের গোপনীয়তা নীতিতে অনুরূপ ধারা যুক্ত করেছে, যা ব্যবহারকারীর অধিকার রক্ষার জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতা।
টিকটকের মালিকানা পরিবর্তন ২০২৪ সালের শেষের দিকে সম্পন্ন হয়, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন যৌথ উদ্যোগ গঠন করা হয়। এই পরিবর্তনের পর, কোম্পানি ব্যবহারকারীদের কাছে নীতি আপডেটের তথ্য জানাতে ইন-অ্যাপ বার্তা পাঠায়, যা বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই লক্ষ্য করে।
নীতি আপডেটের পর, টিকটক ব্যবহারকারীরা টুইটার, রেডডিট এবং ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে নীতির নির্দিষ্ট বাক্যাংশ শেয়ার করে উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিশেষ করে “সেক্সুয়াল লাইফ বা সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন, ট্রান্সজেন্ডার বা ননবাইনারি, নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্থিতি” শব্দগুলো ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই উদ্বেগের পেছনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় অভিবাসন নীতি কঠোর করা হয়, ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রতিবাদ বাড়ে। ব্যবহারকারীরা ভয় পায় যে টিকটকের ডেটা সংগ্রহ সরকারী সংস্থার নজরে আসতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে মিনেসোটা রাজ্যে বৃহৎ প্রতিবাদে ব্যবসা বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদকারীরা অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার বিষয়ক দাবি তুলে ধরছে, এবং এই পরিস্থিতি টিকটকের নীতি পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
টিকটক উল্লেখ করে যে সংবেদনশীল তথ্যের সংগ্রহ ব্যবহারকারীর স্বেচ্ছা ভিত্তিতে হয় এবং তা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিষেবা উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হয়। কোম্পানি ডেটা শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংযোগ নেই বলে দাবি করে।
গোপনীয়তা নীতির এই ধারা অন্যান্য বড় প্ল্যাটফর্মের নীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামও ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা উল্লেখ করে, যা CCPA এবং ইউরোপীয় GDPR এর প্রয়োজনীয়তা পূরণে সহায়ক।
টিকটকের ব্যবহারকারীরা নীতি পরিবর্তনের পর অ্যাপ থেকে লগআউট করে, অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা বা ডেটা ডাউনলোডের মতো পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। কিছু ব্যবহারকারী গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তৃতীয় পক্ষের VPN ব্যবহার করেও দেখেছেন।
টিকটকের আইনগত দল বলেছে যে নীতি আপডেটের উদ্দেশ্য হল ব্যবহারকারীর অধিকার স্পষ্টভাবে জানানো, যাতে তারা কোন তথ্য শেয়ার করতে চান তা সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই ব্যাখ্যা ব্যবহারকারীর উদ্বেগ কমাতে যথেষ্ট নয় বলে কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন।
টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে টিকটকের গোপনীয়তা নীতি পরিবর্তন কোনো নতুন ডেটা সংগ্রহের সূচনা নয়, বরং বিদ্যমান আইনি বাধ্যবাধকতার প্রতিফলন। তাই ব্যবহারকারীর জন্য মূল বিষয় হল নীতির বিষয়বস্তু বোঝা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংক্ষেপে, টিকটকের গোপনীয়তা নীতিতে সংবেদনশীল তথ্যের উল্লেখ ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যদিও এই ধারা পূর্বে থেকেই নীতিতে ছিল এবং আইনগত প্রয়োজনীয়তা পূরণে তৈরি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ ও অভিবাসন সংক্রান্ত প্রতিবাদ এই উদ্বেগকে তীব্র করেছে, এবং ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডেটা সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।



