মিনেসোটা রাজ্যের বহু ব্যবসা শুক্রবার বন্ধ করে, এবং শীতের তীব্র ঠাণ্ডায় হাজারো নাগরিক আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) উপস্থিতি বিরোধে রাস্তায় নেমে আসে। স্থানীয় সংগঠনগুলো কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কাজ ও স্কুল থেকে বিরত থাকতে এবং কেনাকাটা না করতে আহ্বান জানায়, যাতে অভিবাসন নীতি বিরোধী অর্থনৈতিক প্রতিবাদ গড়ে ওঠে।
এই প্রতিবাদের পটভূমি হল ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশে চালু করা আইসের অপারেশন, যা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান। সরকার এই পদক্ষেপকে অপরাধী অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য জননিরাপত্তা মিশন হিসেবে উপস্থাপন করে, তবে মানবাধিকার সংস্থা ও সমালোচকরা দাবি করেন যে অপরাধমূলক রেকর্ডহীন অভিবাসী ও এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে।
শুক্রবারে মিনিয়াপোলিস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় একশো ধর্মীয় কর্মী আইসের গ্রেফতারকৃতদের পরিবহন না করতে এয়ারলাইনগুলোকে অনুরোধ জানিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেয়। এই কর্মীরা বিমানবন্দরে আটক হওয়ার পরই গ্রেফতার হয়। ধর্মীয় নেতা ডোয়েন রয়েস্টার, যিনি Faith in Action সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, আইসকে মিনেসোটা থেকে এবং সব রাজ্য থেকে বের করে আনার দাবি জানিয়ে, কংগ্রেসকে আইসের কার্যক্রমে তদারকি করার আহ্বান জানান।
ফেডারেল সরকার ইতিমধ্যে “অপারেশন মেট্রো সার্জ” নামে একটি বৃহৎ নিরাপত্তা পরিকল্পনা চালু করে, যার আওতায় হাজারো ফেডারেল অফিসারকে মিনেসোটা জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল আইসের কার্যক্রমে সহায়তা করা এবং প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংঘাত রোধ করা।
প্রতিবাদের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছিল সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসের ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুডের হত্যাকাণ্ড, যা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে নিন্দা ও শোকের সাড়া জাগিয়েছে। গুডের মৃত্যু আইসের কার্যক্রমের প্রতি জনমতকে আরও কঠোর করে তুলেছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা পেয়েছে।
শীতের তাপমাত্রা -১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় -২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থাকা সত্ত্বেও, শহরের কেন্দ্রস্থলে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে গিয়ে, ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) এর টিম মিনেসোটা টিম্বারউলভসের ঘরে অবস্থিত আরেনায় একটি বড় অ্যান্টি-আইস সমাবেশে অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা গান গেয়ে, স্লোগান শোনিয়ে এবং সঙ্গীতের সুরে সমাবেশকে উজ্জীবিত করে, তারপর ভেতরে প্রবেশ করে সমাবেশ চালিয়ে যায়।
মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা কোরি ল্যাম্ব, যিনি হারিয়েট গ্রোভ বোটানিক্যালস নামের একটি ছোট ব্যবসা চালাতেন, শুক্রবার সকালে তার দোকান বন্ধ করে সরাসরি প্রতিবাদে যোগ দেন। ল্যাম্ব আইসের উপস্থিতি ও রেনি গুডের মৃত্যুর প্রতি গভীর রাগ প্রকাশ করেন এবং অভিবাসন অভিযানকে অর্থনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, এমন নীতি স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, আইসের অপারেশনকে অপরাধমূলক অভিবাসীদের সনাক্ত ও অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে। তবে সমালোচকরা জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের অভিযান আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে এবং সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ধর্মীয় গোষ্ঠী, শ্রমিক ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একত্রে আইসের কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপের জন্য কংগ্রেসে আইনগত তদারকি ও নীতিগত পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। তারা ভবিষ্যতে আইসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানাচ্ছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, কংগ্রেসের কিছু সদস্য আইসের কার্যক্রমে তদারকি বাড়াতে এবং অভিবাসন নীতিতে সংশোধনী আনার জন্য আলোচনা শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে, ফেডারেল সরকার “অপারেশন মেট্রো সার্জ” চালিয়ে যাবে, যাতে আইসের কার্যক্রমে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং নিরাপত্তা বজায় থাকে।
মিনেসোটা রাজ্যের এই ব্যাপক প্রতিবাদ ও ব্যবসা বন্ধের ঘটনা দেখায় যে, অভিবাসন নীতি ও আইসের উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতি, সামাজিক সংহতি এবং রাজনৈতিক আলোচনায় গভীর প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতে কংগ্রেস ও ফেডারেল প্রশাসনের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়বে।



