28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিককানাডিয়ান তরুণী কুইন্সল্যান্ডের সমুদ্রতটে ডুবে মারা গেছেন, অটোপ্সি নিশ্চিত করেছে

কানাডিয়ান তরুণী কুইন্সল্যান্ডের সমুদ্রতটে ডুবে মারা গেছেন, অটোপ্সি নিশ্চিত করেছে

কুইন্সল্যান্ডের K’Gari দ্বীপের সমুদ্রতটে ১৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান পর্যটক পাইপার জেমসের দেহ পাওয়া যায়। অটোপ্সি ফলাফলে দেখা যায় তিনি ডুবে মারা গেছেন এবং দেহে ডিঙ্গোর কামড়ের চিহ্ন রয়েছে।

পাইপারের দেহ সোমবার স্থানীয় সময় ০৬:৩০ (গ্রীনউইচ সময় ২০:৩০) সন্ধ্যায় সমুদ্রতটে পাওয়া যায়। দেহটি ঐ দ্বীপের বিখ্যাত Maheno জাহাজের ধ্বংসাবশেষের কাছে আবিষ্কৃত হয়, যা ১৯৩৫ সালে তীরে ধাক্কা খেয়ে ভেসে গিয়েছিল এবং এখন পর্যটকদের প্রিয় স্থান।

কুইন্সল্যান্ডের করোনার্স কোর্টের মুখপাত্র বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, অটোপ্সি ফলাফলে ডুবে যাওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দেহে ডিঙ্গোর কামড়ের চিহ্নও রেকর্ড করা হয়েছে, তবে ডিঙ্গোর কামড়ের ফলে সরাসরি মৃত্যুর সম্ভাবনা কম বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

ডিঙ্গোর কামড়ের চিহ্নগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: মৃত্যুর পূর্বে হওয়া কামড়ের চিহ্ন এবং মৃত্যুর পরের কামড়ের চিহ্ন। মৃত্যুর পূর্বের কামড়ের চিহ্নগুলো তাত্ক্ষণিক মৃত্যুর কারণ নয় বলে অনুমান করা হচ্ছে, আর মৃত্যুর পরের চিহ্নগুলো দেহের অবশিষ্টাংশে দেখা গেছে।

অটোপ্সি একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন, এবং সঠিক মৃত্যুর কারণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমান ফলাফল অনুযায়ী ডুবে যাওয়া প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাইপারের বাবা টড জেমস অস্ট্রেলিয়ার ৯নিউজকে জানিয়েছেন, অটোপ্সি ফলাফলে পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তি এসেছে, কারণ দেহটি কানাডায় পরিবারকে ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে। তার মা অ্যানজেলা গ্লোবাল নিউজকে জানান, তাদের মেয়ে সবসময় ভ্রমণ স্বপ্ন দেখতেন এবং হাইস্কুল শেষ করার পর এই সফরের জন্য সঞ্চয় করেছিল।

পাইপারের বাবা-মা তার অল্প বয়সে একা ভ্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, তিনি নিজের ইচ্ছা ও পরিকল্পনা মেনে চলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ছয় সপ্তাহ ধরে একটি ব্যাকপ্যাকার হোস্টেলে কাজ করছিলেন এবং বন্ধুদের জানিয়েছিলেন যে তিনি সোমবার সকাল ০৫:০০ টায় সাঁতার কাটতে যাবেন।

দ্বীপ K’Gari, যা ওয়াল্ডার্ন ন্যাশনাল পার্কের অংশ, বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এবং এখানে প্রায় ২০০টি ডিঙ্গো বসবাস করে। ডিঙ্গো অস্ট্রেলিয়ার স্বদেশীয় কুকুরের এক প্রজাতি এবং কুইন্সল্যান্ডের জাতীয় উদ্যানগুলোতে সুরক্ষিত।

এই ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জোরদার করেছে। সমুদ্রতটে সাঁতার কাটার সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং ডিঙ্গোর সঙ্গে সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যটন নিরাপত্তা সংস্থা এই ধরনের ঘটনার পর পুনরায় পর্যটক নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।

পাইপার জেমসের দেহ কানাডায় তার পরিবারকে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। কানাডিয়ান দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে দেহের পরিবহন ও শবযাত্রা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই দুঃখজনক ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যটক সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা তীব্র করেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী দ্বীপে পর্যটকরা কীভাবে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট নীতি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, অটোপ্সি ফলাফল ডুবে যাওয়া প্রধান কারণ হিসেবে নির্দেশ করে, তবে ডিঙ্গোর কামড়ের উপস্থিতি ঘটনাটিকে জটিল করে তুলেছে। তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments