সাভার জেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের আকরাইন-সাভার সড়কের কালিয়াকৈর এলাকায় ভোরের প্রায় সাড়ে চারটায় এক গাছ রাস্তায় ফেলে বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন ডাকাত তীক্ষ্ণ অস্ত্র নিয়ে গাড়ি থামাতে চেষ্টা করে। গাড়িটি ছিল একটি প্রাইভেট ক্যার, যার চালক বাধা অতিক্রম করতে গিয়ে গাড়ি থামাতে অস্বীকার করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করে। ফলে ডাকাতরা গাড়িতে হামলা করে, জানালার কাচ ভেঙে যায়।
গাছটি বড় আকারের এবং রাস্তায় অপ্রত্যাশিতভাবে রাখা হয়েছিল, যা গাড়ির স্বাভাবিক চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে। ডাকাতরা গাছের পাশে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাড়ি থামাতে চায়, তবে চালক গাড়ি থামাতে অস্বীকার করে ত্বরান্বিত করে গতি বাড়ায়। গাড়ি দ্রুত চলতে থাকায় ডাকাতরা গাড়ির দরজা ও জানালায় আক্রমণ চালায়, যার ফলে গাড়ির সামনের জানালার কাচ ভেঙে যায়।
স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া ফাঁড়ি থানা ইনচার্জ আল আমিন জানান, রাত্রিকালীন সময়ে রাস্তায় গাড়ির স্বাভাবিক গতি বন্ধ দেখা গিয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ দল গাছের চারপাশে অনুসন্ধান চালায় এবং অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করে।
অপরাধীরা গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকায় প্রথমে পালিয়ে যায়, তবে পুলিশ দল দ্রুত তাদের পিছু ধাওয়া করে। অনুসন্ধান শেষে কয়েকজন সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে এবং গাছটি সড়ক থেকে সরিয়ে পুনরায় ট্রাফিক স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ইনচার্জ আল আমিন উল্লেখ করেন, গাছটি রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে গাড়ির নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে এবং তা অপরাধমূলক কাজের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি জানান, তদন্ত চলাকালে গাছটি এবং গাড়ির কাচের টুকরোসহ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, গাছটি ব্যবহার করে গাড়ি থামিয়ে ধরা পড়া গাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করার পরিকল্পনা ছিল। এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দস্যুতা, সম্পত্তি ধ্বংস এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইপি সি-তে মামলা দায়ের করা হবে।
আইন অনুযায়ী, দস্যুতা (ধারা ৩৯১) এবং সম্পত্তি ধ্বংস (ধারা ৪৩১) অপরাধে শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া, গাছের মাধ্যমে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলা আইপি সি-র ধারা ৩৩৯ অনুসারে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালত এই মামলায় যথাযথ শাস্তি নির্ধারণের জন্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাস্তায় অপ্রত্যাশিত বাধা দেখা দিলে গাড়ি থামিয়ে না দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পুলিশকে জানাতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে, গাড়ি চালানোর সময় সতর্কতা বজায় রাখা এবং অচেনা ব্যক্তিরা যদি হুমকি সৃষ্টি করে তবে তা সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় জানানো জরুরি।
এই ঘটনার মাধ্যমে রাস্তায় অপ্রত্যাশিত বাধা এবং হিংসাত্মক অপরাধের ঝুঁকি স্পষ্ট হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে ট্রাফিক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



