বেইজিং শুক্রবার জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের চীনে সংখ্যালঘুদের ওপর জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ সিদ্ধান্তটি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গু জিয়াকুনের নিয়মিত সংবাদব্রিফিংয়ে জানানো হয়। একই সময়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ও অন্যান্য বিশ্লেষকরা পূর্বে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনজিয়াং ও অন্যান্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বৃহস্পতিবার একটি যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, চীনের সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ‘শ্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য নির্মূল’ প্রকল্পের আওতায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর বাধ্যতামূলক কাজের চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা বলেন, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে উইঘুর, তিব্বতি এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে কাজের স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গু জিয়াকুন সংবাদব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, কিছু বিশেষজ্ঞের উদ্বেগ ‘সম্পূর্ণ সাজানো এবং মূলত ভিত্তিহীন’। তিনি আরও যোগ করেন, বিশেষজ্ঞদেরকে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আহ্বান জানিয়ে, চীন বিরোধী শক্তির হাতিয়ার হয়ে ওঠা থেকে বিরত রাখতে বলছেন।
জাতিসংঘের যৌথ বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, একই ধরনের কর্মসূচি তিব্বতিদের ওপরও প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং ২০২৪ সালে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষকে এই শ্রম স্থানান্তরের আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই প্রোগ্রামগুলোতে কাজের শর্ত ও বেতন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যের অভাব রয়েছে।
বেইজিং সরকার বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, ‘শ্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য নির্মূল’ প্রকল্পটি গ্রামীণ নিম্ন আয়ের মানুষকে ভালো বেতনের চাকরি প্রদান করে দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করছে। সরকার দাবি করে, এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত হয়েছে এবং উন্নয়নের ফলাফল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
গু জিয়াকুন শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে বলেন, সিনজিয়াং ও তিব্বতে উন্নয়ন ও অগ্রগতি সকলের চোখে স্পষ্ট দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের সরকার দারিদ্র্যমুক্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের অভিযোগ এবং চীনের প্রত্যাখ্যানের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তবে তা চীনের মানবাধিকার রেকর্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, স্বচ্ছতা ও স্বাধীন তদারকি ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সংলাপের নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে, যেখানে মানবাধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।



