27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঢাকা‑১৬ নির্বাচনে ক্যাম্পের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা সমস্যার মুখে ভোটারদের দাবি

ঢাকা‑১৬ নির্বাচনে ক্যাম্পের বাসিন্দা ও নিরাপত্তা সমস্যার মুখে ভোটারদের দাবি

ঢাকা‑১৬ নির্বাচনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিরপুর‑১১ এর বিহারি ক্যাম্পে বসবাসকারী ২৩ বছর বয়সী কাহকাসনের জীবনযাত্রা নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তিনি দীর্ঘদিনের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদের হুমকির মুখে আছেন এবং মৌলিক নাগরিক সেবা ছাড়া বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্যাম্পের সংকীর্ণ গলিতে বড় বড় পরিবার একসাথে বসবাস করে, যেখানে স্বচ্ছ পানীয় জলের অভাব, গ্যাস সরবরাহের অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি সর্বদা বিদ্যমান। এই পরিস্থিতিতে কাহকাসন, যিনি এখন ভোটার, মৌলিক সেবা এবং স্থায়ী বাসস্থানের দাবি করে চলেছেন।

তাঁর দাবি শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, ক্যাম্পের অন্যান্য মেয়েদের শিক্ষা ও নিরাপত্তার জন্যও। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মেয়েদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত না হলে তাদের ভবিষ্যৎ দুঃখজনক হতে পারে।

কাহকাসনের গল্প ঢাকা‑১৬ এর রূপনগর, কালশি ও পল্লবীর মতো অন্যান্য শরণার্থী ক্যাম্পেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো এখনও সমাধান হয়নি।

নিবাসীরা প্রধানত মাদক বিক্রি, চোরাচালান এবং হিংসা নিয়ে উদ্বিগ্ন। দিনভর মাদকের লেনদেন এবং বাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা বাড়ছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

খারাপ নিকাশি ব্যবস্থার ফলে হালকা বৃষ্টিও রাস্তা জলে ভরে যায়, আর পার্শ্ববর্তী খালগুলো কার্যত খোলা নর্দমা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবেশ রোগের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে এবং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করে।

অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তি গঠনকারী গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো প্রায়ই জবরদস্তি ও গ্যাংয়ের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে। পাশাপাশি, স্লাম এলাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড ঘটছে, যা মানুষের সম্পত্তি ও প্রাণের ক্ষতি করে।

পল্লবী হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা এ এম সালিমুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, “এখানে নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় সমস্যা। দিনভর মাদকের ব্যবসা চলে, চুরি ও ডাকাতি বাড়ছে, তবু এই বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়।” তিনি আশাবাদী যে আসন্ন নির্বাচন এই অস্থিরতা কমাতে সহায়তা করবে।

সালিমুল্লাহ আরও যোগ করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। নির্বাচিত সরকার যদি এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে, তবে আমাদের জীবনে পরিবর্তন আসবে।” তার এই মন্তব্য স্থানীয় জনগণের আশা প্রকাশ করে।

ঢাকা‑১৬ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা নর্থ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ২, ৩, ৫ ও ৬ নিয়ে গঠিত এবং এইবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই প্রধান দলই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপির প্রার্থী হলেন আমিনুল হক, যিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন নর্থ বিএনপির কনভিনার এবং জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন। তিনি নির্বাচনী প্রচারে ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী হলেন কল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল বাটেন, যিনি পূর্বে সেনা অফিসার হিসেবে সেবা করেছেন। তিনি নিরাপত্তা ও সামাজিক সেবার উন্নয়নকে তার মূল মন্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন।

উভয় প্রার্থীই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারাভিযান শুরু করেছেন এবং শীর্ষস্থানীয় এলাকায় জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া বাড়াচ্ছেন। এই প্রচারাভিযানগুলোতে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আলোচনা করা হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক দলের অফিস সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল মন্সুর জানান, “জামায়াতের কর্মীরা শরণার্থী এলাকায় দরজায় দরজা গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ ভোটারদের চাহিদা জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

নির্বাচনের ফলাফল ঢাকা‑১৬ এর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে, বিশেষত ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মৌলিক সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। উভয় দলই এই এলাকায় স্থায়ী উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments