বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের আগে, প্রধান রাজনৈতিক দল এবং স্বাধীন প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারের প্রথম সপ্তাহে সক্রিয়তা বাড়িয়ে শহর ও গ্রামজুড়ে ভোটারকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করেছে। এই সময়ে দলগুলো লিফলেট বিতরণ, স্লোগান গুঞ্জন এবং দরজায় দরজা ঘুরে ভোটারকে সরাসরি আবেদন করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রচারকালকে “ইলেকশন উইন্ডো” বলা হয়, যার মধ্যে প্রার্থীরা ভোটারকে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা জানাতে পারে।
ব্যস্ত রাস্তা থেকে শান্তিপূর্ণ গলিতে, প্রার্থীরা ও তাদের সহায়ক দলগুলো লিফলেট ছড়িয়ে, স্লোগান গাইছে এবং ভোটারকে প্রতিশ্রুতিমূলক পরিকল্পনা উপস্থাপন করছে। লিফলেটগুলোতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা হয়েছে, আর স্লোগানগুলোতে “সবার জন্য উন্নয়ন” ও “নতুন দিগন্ত” মতো বাক্যাংশ শোনা যায়। বিজ্ঞাপন পোস্টার প্রথমবারের মতো নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রচারমূলক কার্যক্রমে কিছুটা সীমাবদ্ধতা দেখা গেলেও, ছোট ছোট দলে গঠন করা র্যালি ও হেঁটে চলা দলগুলো ভোটারকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
পোস্টার নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশকে কিছুটা শীতল করেছে, তবে পাড়া ও গলিতে ছোট রোডশো ও হেঁটে চলা দলগুলো পূর্বের নির্বাচনের স্মরণীয় প্রতিযোগিতার চিহ্ন ফিরিয়ে এনেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ছোট রোডশোকে স্বাগত জানিয়ে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন, যা ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
“দীর্ঘ বিরতির পর আমাদের এলাকায় বিভিন্ন দল র্যালি দেখলে তাজা লাগছে,” মিরপুর ১০-এর বাসিন্দা রেজাউল করিম বললেন। “অবশেষে আমরা প্রকৃত প্রচার ও প্রতিযোগিতা দেখছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময়ের পর এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ ভোটারদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
শুক্রবার জুমা নামাজের পর প্রার্থীরা ও তাদের দলগুলো মসজিদে জড়ো হয়ে বড়ো সংখ্যক পুরুষ ভোটারকে লক্ষ্য করে লিফলেট বিতরণ এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে। বহু প্রার্থী জুমা নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে একত্রিত হয়ে ভোটারদের সঙ্গে হাতমিলিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন, যা ধর্মীয় সমাবেশের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগকে মিশ্রিত করেছে।
নির্বাচনের মাত্র উনিশ দিন বাকি থাকায় প্রচারের গতি আরও তীব্র হতে পারে, যা ২০০৮ সালের পর দেশের প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মিডিয়া বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই পর্যায়ে প্রচার তীব্রতা বাড়লে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়বে এবং নির্বাচনী ফলাফলকে নির্ধারণ করবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমান ভোরবেলায় নারায়ণগঞ্জের আরাইহাজারের পঞ্চরুখি, বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে একটি সমাবেশের নেতৃত্ব দেন। সমাবেশে কয়েক হাজার ভোটার উপস্থিত ছিলেন, যারা চিৎকার ও স্লোগান গাইতে গাইতে প্রার্থীর বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার অংশ বাশান্তেকের বি.আর.বি. মাঠে গিয়ে সমাবেশ চালিয়ে যান, যেখানে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের অংশ। ক্যান্টনমেন্টের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়, তাই সেখানে তার উপস্থিতি রাজনৈতিক কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ পরিবর্তন ও সমস্যার সমাধান চান; যদি ক্ষমতায় আসেন, বিএনপি জনগণের দাবি শোনার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শাসনের মূল ভিত্তি হবে। তিনি বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, যুব কর্মসংস্থান ও কৃষক সহায়তা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন, যা ভোটারদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জামায়ত-ই-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান ঢাকা থেকে সাইয়দপুরে বিমান করে গিয়ে হেলিকপ্টার দিয়ে শুগার মিল গ্রাউন্ডে পৌঁছেছেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে জামায়াতের সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করে, ধর্মীয় ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
প্রতিটি দলের প্রচার দল সদস্যরা রাত দিন পরিশ্রম করে প্রার্থীর উপস্থিতি সর্বত্র নিশ্চিত করার জন্য প্রচার সামগ্রী বিতরণ, রেলি চালনা এবং স্থানীয় সভা আয়োজন করছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচার বাড়ছে; দলগুলো ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবে ভিডিও ও পোস্ট শেয়ার করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনের দিন কাছাকাছি এলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং ভোটারদের সিদ্ধান্ত দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবশিষ্ট দুই সপ্তাহে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিটি দল অতিরিক্ত র্যালি, সভা ও গৃহপরিদর্শন পরিকল্পনা করছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মাত্রা দেবে।



