ইভোন লাইম ফেডারসন, ১৯৫০‑এর দশকের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ধারায় সক্রিয় ছিলেন, শুক্রবার অ্যারিজোনার পারদাইস ভ্যালি-তে নিজের বাড়িতে প্রাকৃতিক কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ৯০ বছর বয়সে তিনি চলে গেছেন, আর তার বিদায়ের খবরটি শিশুর অধিকার সংস্থা চাইল্ডহেল্পের মাধ্যমে জানানো হয়, যেটি তিনি ১৯৫৯ সালে সহ-প্রতিষ্ঠা করেন।
ইভোনের জন্ম ৭ এপ্রিল ১৯৩৫-এ ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেনডেলে, তার পিতা-মাতা দুজনই সঙ্গীত শিক্ষকের কাজ করতেন। পাসাডেনা প্লেহাউসের ‘আহ, ওয়াইল্ডারনেস!’ নাটকে পারফর্ম করার সময় একটি এজেন্ট তার সম্ভাবনা লক্ষ্য করেন এবং তৎক্ষণাৎ তার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয়।
প্রাথমিক বছরগুলোতে তিনি ‘ড্র্যাগস্ট্রিপ রায়ট’ ও ‘হাই স্কুল হেলক্যাটস’ মতো এক্সপ্লয়টেশন চলচ্চিত্রে কাজ করেন, এরপর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল পিকচার্সের অধীনে ‘আই ওয়াজ এ টিনেজ ওয়্যারউলফ’ ছবিতে মাইকেল ল্যান্ডনের প্রেমিকা চরিত্রে অভিনয় করে নজরে আসেন। এই সময়ের কাজগুলো তাকে ১৯৫০‑এর দশকের জনপ্রিয় বি‑মুভি ধারার এক মুখ্য মুখে পরিণত করে।
টেলিভিশন জগতে ইভোনের উপস্থিতি ততটা কম নয়। তিনি এবিসি চ্যানেলের ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব ওজি অ্যান্ড হ্যারিয়েট’ সিরিজে কাজের সময় ভবিষ্যৎ সাথী সারা ও’মেয়ারার সঙ্গে পরিচিত হন। ১৯৫৬ সালে বার্ট ল্যানকাস্টারের ‘দ্য রেইনমেকার’ ছবিতে স্নুকি ম্যাগুইর চরিত্রে অভিনয় করেন এবং একই বছর থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত ‘ফাদার নোজ বেস্ট’ ধারায় ডটি স্নো নামের চরিত্রে ১৪টি পর্বে উপস্থিত থাকেন। তার টিভি ক্যারিয়ারটি বিভিন্ন নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে ছিল, যার মধ্যে সিবিএস ও এনবিসি অন্তর্ভুক্ত।
১৯৬৯ সালে তিনি টিভি প্রযোজক ডন ফেডারসনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তার পর থেকে অভিনয় থেকে সরে যান। ডন ফেডারসন ‘দ্য মিলিয়নেয়ার’, ‘মাই থ্রি সন্স’, ‘ফ্যামিলি আফেয়ার’ এবং ‘দ্য বেটি হোয়াইট শো’ মতো জনপ্রিয় সিরিজের পেছনে ছিলেন। ডনের ১৯৯৪ সালে মৃত্যুর পর ইভোন ডন ফেডারসন প্রোডাকশনসের সভাপতি ও সিইও পদে অধিষ্ঠিত হন এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শোগুলোর অধিকার পরিচালনা করেন।
ইভোনের মানবিক দিকটি তার দাতব্য কাজের মাধ্যমে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ১৯৫৯ সালে তিনি ও সারা ও’মেয়ারা একসাথে চাইল্ডহেল্প প্রতিষ্ঠা করেন, যা দুঃস্থ, অবহেলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরা রক্ষা ও সহায়তা করার লক্ষ্যে কাজ করে। সংস্থাটি তাদের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি—সহানুভূতি, শক্তি এবং ভালোবাসার শক্তিতে বিশ্বাস—কে ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং আজও বিশ্বব্যাপী সক্রিয়।
সারা ও’মেয়ারা ইভোনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেন, ইভোন ছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু এবং ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই মিশনের সঙ্গী। তিনি ইভোনের সহানুভূতি, দৃঢ়তা এবং ভালোবাসার শক্তিতে বিশ্বাসকে চাইল্ডহেল্পের প্রাথমিক গঠনকে গড়ে তোলার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। এই কথাগুলো ইভোনের মানবিক অবদানের গভীরতা তুলে ধরে।
ইভোনের মৃত্যু পারদাইস ভ্যালির তার নিজ বাড়িতে ঘটেছে, এবং তার দেহস্থানটি পরিবারিক গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ প্রাকৃতিক বলে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং তিনি দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও সহকর্মী সারা ও’মেয়ারার সঙ্গে শেষ পর্যন্ত একসাথে কাজ চালিয়ে গেছেন।
ইভোন লাইম ফেডারসনের বিদায়ে বিনোদন জগৎ এবং শিশু সুরক্ষা কর্মী উভয় ক্ষেত্রেই শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি একজন সফল অভিনেত্রী, টেলিভিশন প্রযোজনা ব্যবস্থাপক এবং মানবিক দাতব্য কর্মীরূপে স্মরণীয় হয়ে রইবেন। তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, এবং চাইল্ডহেল্পের কাজ তার স্মৃতিকে জীবিত রাখবে।



