প্রখ্যাত অপেরা গায়িকা রেনি ফ্লেমিং মে মাসে নির্ধারিত দুইটি কেনেডি সেন্টার পারফরম্যান্স থেকে প্রত্যাহার করেছেন। এই সিদ্ধান্তটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা দ্বারা সেন্টারকে “ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার” নামে পুনঃনামকরণের পর ধারাবাহিক বাতিলের একটি অংশ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
কেনেডি সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সলোইস্ট এবং রেপার্টোয়ার নির্বাচন পরবর্তীতে জানানো হবে, তবে প্রোগ্রামের বাকি অংশ অপরিবর্তিত থাকবে। এই ঘোষণাটি এই সপ্তাহে আপডেট করা হয় এবং সেন্টারের ভবিষ্যৎ প্রোগ্রামিং পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করে।
রেনি ফ্লেমিং এই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, এবং মিডিয়ার অনুরোধে তৎক্ষণাৎ উত্তরও দেয়া হয়নি। তার অনুপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা সৃষ্টি করেছে, কারণ তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে অন্যতম সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত।
কেনেডি সেন্টারে রেনি ফ্লেমিংয়ের পাশাপাশি লিন-ম্যানুয়েল মিরান্ডা, বেলা ফ্লেক এবং ইসা রে সহ আরও কয়েকজন শিল্পীও তাদের অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই শিল্পীরা সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের “ওয়েক” সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আক্রমণকে কেন্দ্র করে সেন্টারের নীতি পরিবর্তনের সমালোচনা করে আসছেন।
ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা, যা ১৯৭১ সাল থেকে কেনেডি সেন্টারে পারফরম্যান্স দিচ্ছিল, এই মাসের শুরুর দিকে সেন্টারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপটি সেন্টারের নতুন নামকরণ ও সংস্কৃতি নীতি পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।
সঙ্গীত উপস্থাপনাকারী ভোকাল আর্টস ডি.সি., যারা একই সপ্তাহে আর্থিক সমস্যার কারণে তিনটি কেনেডি সেন্টার কনসার্ট বাতিলের কথা জানিয়েছিল, শুক্রবারে জানায় যে তারা বাতিল হওয়া পারফরম্যান্সের জন্য নতুন ভেন্যু খুঁজে পেয়েছে। এতে টেনর বেনজামিন বার্নহেম এবং পিয়ানিস্ট ক্যারি-অ্যান ম্যাথেসন অন্তর্ভুক্ত।
বার্নহেম এবং ম্যাথেসনকে নতুনভাবে গেজার্ড ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে পারফরম্যান্সের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা এই বসন্তে দুটি অপেরা উপস্থাপন করবে। এই স্থানান্তরটি শিল্পীদের জন্য বিকল্প মঞ্চ সরবরাহের পাশাপাশি সেন্টারের সংস্কারমূলক নীতির প্রভাবকে হ্রাস করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে সেন্টারকে পুনঃনামকরণ করার পর থেকে, বিভিন্ন শিল্পী ও সংগঠন তাদের সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই ধারাবাহিক বাতিলের পেছনে মূলত নতুন ব্যবস্থাপনার “ওয়েক” সংস্কৃতির বিরোধী নীতি এবং আর্থিক চাপের সমন্বয় রয়েছে।
বিভিন্ন শিল্পী ও সংগঠনের এই সমবেত পদক্ষেপের ফলে কেনেডি সেন্টারের আসন্ন সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডার ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। দর্শক ও শিল্প উভয়েরই নতুন বিকল্প খোঁজার প্রয়োজন বাড়ছে, এবং এই পরিবর্তনগুলো ভবিষ্যতে সেন্টারের প্রোগ্রামিং নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত।
সারসংক্ষেপে, রেনি ফ্লেমিংয়ের বাতিল, অন্যান্য শিল্পীর প্রত্যাহার এবং সংগঠনের বিচ্ছিন্নতা একত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে সেন্টারের সংস্কৃতি নীতি পরিবর্তনের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে, যা দেশের শিল্প পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।



