২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকার একটি প্রাইমারি স্কুলে একটি শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে সহপাঠীদের মুখে থুতু দিচ্ছিল। ঘটনাটি শিক্ষকের নজরে এলে, শিশুটির আচরণ নিয়ন্ত্রণে তৎক্ষণাৎ শাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শিক্ষক শিশুটিকে ক্লাসের শেষে একান্তে ডেকে, তার অশালীন আচরণের গুরুতরতা ব্যাখ্যা করে সতর্ক করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য লিখিত নোটিশ জারি করেন। নোটিশে পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়।
শাসনমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি, স্কুলের অভ্যন্তরে চলমান একটি পৃথক অভিযোগের ফলে স্কুলের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, শিশুর নির্যাতনের অভিযোগে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের বিবরণে বলা হয়েছে, নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক শিশুর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, স্কুলের নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড এবং শিক্ষার্থীদের সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা অধিদপ্তরও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদারকি দল গঠন করেছে। দলটি স্কুলের নিরাপত্তা নীতি, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং শাসন পদ্ধতি পর্যালোচনা করবে। তদারকি দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঘটনাটির পর শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের কাছে একটি সাধারণ সভা আয়োজন করেন। সভায় তিনি শিশুর আচরণ সংশোধনের জন্য গৃহীত শাসনমূলক পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা চেয়ে নেন।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাদের সন্তানদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে শাসনমূলক পদ্ধতি প্রয়োজন হতে পারে, তবে তা মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত হতে হবে। তারা স্কুলের নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে সরকারের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।
শাসনমূলক পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে কিছু অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, শাসন কোনো শারীরিক শাস্তি বা মানসিক নির্যাতনের রূপ নিতে পারে না এবং সব সময় শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।
আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে শিশুর অধিকার সংরক্ষণে ২০১৩ সালের শিশু অধিকার আইন স্পষ্টভাবে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করেছে। তবে, মৌখিক শাসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পদ্ধতি আইনগতভাবে অনুমোদিত, যদি তা শিশুর মর্যাদা রক্ষা করে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, শাসনমূলক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে এবং কোনো ধরনের নির্যাতন ঘটলে তা অবিলম্বে আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হবে।
শাসনমূলক পদক্ষেপের পর, শিশুটি ক্লাসে ফিরে এসে সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিথস্ক্রিয়া চালিয়ে যায়। শিক্ষকরা পর্যবেক্ষণ করছেন, শিশুর আচরণে কোনো পুনরাবৃত্তি না হলে শাসন নোটিশ বাতিল করা হবে।
অপরদিকে, শিশুর নির্যাতনের মামলায় তদন্ত চলমান। পুলিশ জানিয়েছে, প্রমাণ সংগ্রহের পর আদালতে মামলাটি দাখিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় সমাজে শিশু সুরক্ষা ও শাসন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। বিভিন্ন এনজিও এবং মানবাধিকার সংগঠন শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু করেছে এবং সরকারকে কঠোর নীতি প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছে।



