ইংল্যান্ডের একটি বালিকা হোস্টেল স্কুলে পড়াশোনা করা মিন্না ও ফ্লিকের বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত নতুন চলচ্চিত্র ‘এক্সট্রা জিওগ্রাফি’ সান্ডান্স চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্বপ্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো উপস্থাপিত হবে। ছবিটি ২৩ জানুয়ারি বিশ্ব সিনেমা নাট্য প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হবে, যেখানে তরুণী বন্ধুত্ব, প্রথম প্রেম এবং শেক্সপিয়রের ‘এ মিডসামার নাইটস ড্রিম’ নাটকের ছোঁয়া মিশে থাকবে।
মিন্না ও ফ্লিক, দুজনেই ইংরেজি বালিকা হোস্টেল স্কুলের শিক্ষার্থী, একসাথে নাট্য অডিশনে অংশ নেয় এবং একই সঙ্গে নিজেদের ‘বিশেষ প্রকল্প’ হিসেবে প্রথম দেখা ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমে পড়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। তাদের প্রথম দেখা ব্যক্তি হলেন ভূগোলের শিক্ষক, যার সঙ্গে তারা অপ্রত্যাশিত রোমান্সের সূচনা করে। এই কাহিনী শেক্সপিয়রের নাটকের প্রেমের জটিলতা ও ভুল বোঝাবুঝির সঙ্গে সমান্তরালভাবে গড়ে ওঠে।
‘এক্সট্রা জিওগ্রাফি’র প্রধান চরিত্রে গ্যালাক্সি ক্লিয়ার ও মার্নি ডগ্যান অভিনয় করেছেন, যাদের জন্য এটি প্রথম বড় স্ক্রিনে উপস্থিতি। ভূগোল শিক্ষক চরিত্রে অ্যালিস এঙ্গ্লার্টের অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ছবির নির্মাতা মলি মানার্স, যিনি ‘ইন মাই স্কিন’ ও ‘ওয়ান ডে’ মতো পূর্বের কাজের জন্য পরিচিত, এই প্রকল্পে তরুণী বন্ধুত্বের সূক্ষ্মতা ও তীব্রতা তুলে ধরতে চেয়েছেন।
চিত্রনাট্য লিখেছেন মিরিয়াম ব্যাটি, যিনি টেলিভিশন সিরিজ ‘সাক্সেশন’ ও ‘দ্য উম্যান ইন দ্য ওয়াল’ এর জন্য স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। তিনি রোজ ট্রেমেইনের একই নামের ছোটগল্পকে ভিত্তি করে এই চলচ্চিত্রের গল্প গড়ে তুলেছেন। গল্পের মূল থিম হল কিশোরী বয়সে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের শক্তি এবং প্রথম প্রেমের উচ্ছ্বাস, যা শেক্সপিয়রের নাট্যশৈলীর সঙ্গে মিশে নতুন রূপ পেয়েছে।
প্রযোজক সারা ব্রকলে হার্স্ট, যিনি বহু আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করেছেন, এই ছবির জন্য তহবিল ও সমর্থন সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। হ্যানওয়ে ফিল্মস ছবির বিক্রয় ও বিতরণ পরিচালনা করবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে চলচ্চিত্রের প্রবেশদ্বার খুলে দেবে।
মলি মানার্সের মতে, এই চলচ্চিত্রটি ব্রিটিশ হাইস্কুলের পরিবেশে গড়ে ওঠা কিশোরী মেয়েদের জীবনের এক স্বতন্ত্র দিককে তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই সময়কালে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ও প্রেমের জটিলতা বড় পর্দায় উপস্থাপন করা একটি চ্যালেঞ্জ, তবে একই সঙ্গে তা দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ।
‘এক্সট্রা জিওগ্রাফি’ শিরোনামটি ছবির মূল ধারণাকে প্রতিফলিত করে; ভূগোল শিক্ষককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রেমের গল্পকে ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবির নামের মাধ্যমে দর্শকরা কল্পনা করতে পারেন যে, প্রেমের মানচিত্রে নতুন কোনো অঞ্চল আবিষ্কারের মতো একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে।
সান্ডান্সে এই চলচ্চিত্রের বিশ্বপ্রদর্শনী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ও দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণী দর্শকগণ, যারা বন্ধুত্ব ও প্রথম প্রেমের গল্পে নিজেকে সনাক্ত করতে পারেন, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাবনা হতে পারে।
চলচ্চিত্রের সঙ্গীত ও চিত্রনাট্য উভয়ই শেক্সপিয়রের নাট্যশৈলীর সূক্ষ্মতা ও আধুনিক কিশোরী জীবনের বাস্তবতা মিশ্রিত করে তৈরি করা হয়েছে। এতে শেক্সপিয়রের রোমান্টিক উপাদানগুলোকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে পুনর্গঠন করা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেবে।
‘এক্সট্রা জিওগ্রাফি’র প্রিমিয়ার সান্ডান্সের বিশ্ব সিনেমা নাট্য প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তা, অভিনেতা ও প্রযোজকরা উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে নতুন প্রতিভা ও উদ্ভাবনী গল্পগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
চলচ্চিত্রের প্রচারমূলক উপকরণে দেখা যায়, গ্যালাক্সি ক্লিয়ার ও মার্নি ডগ্যানের অভিনয়কে কেন্দ্র করে একটি তাজা ও প্রাণবন্ত বন্ধুত্বের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অ্যালিস এঙ্গ্লার্টের ভূগোল শিক্ষক চরিত্রকে রোমান্টিক ও বুদ্ধিদীপ্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ছবির মূল থিমকে সমর্থন করে।
‘এক্সট্রা জিওগ্রাফি’ শিরোনামটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শেক্সপিয়রের নাট্যকর্মের আধুনিক ব্যাখ্যা হিসেবে প্রশংসা পেয়েছে। সান্ডান্সে এই চলচ্চিত্রের সফলতা ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক বিতরণ ও পুরস্কার অর্জনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
সারসংক্ষেপে, ‘এক্সট্রা জিওগ্রাফি’ একটি নতুন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র, যা কিশোরী বন্ধুত্ব, প্রথম প্রেম এবং শেক্সপিয়রের নাট্যশৈলীর সংমিশ্রণকে একত্রে উপস্থাপন করে। সান্ডান্সে বিশ্বপ্রদর্শনীতে এই ছবির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করবে।



