বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে নির্বাচনী র্যালিতে আওয়ামী লীগের ওপর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উপস্থিত সমাবেশে ruling party‑কে মাফিয়া পার্টি বলে অভিহিত করে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন।
আহমদ উল্লেখ করেন, দেশের পণ্য ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল পায়, তবে আওয়ামী লীগ এখন ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ রূপে কাজ করছে। তিনি যুক্তি দেন, ভারতের মালিকানাধীন পণ্য রপ্তানি হয়ে গেছে, তেমনি আওয়ামী লীগও বিদেশি স্বার্থে কাজ করছে, যা দেশের স্বনির্ভরতা ও স্বার্থের বিপরীত।
বক্তা আরও বলেন, একসময় রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগ এখন মাফিয়া সংগঠনের মতো কাজ করছে। তিনি দেশের উন্নয়ন ও স্বার্থের জন্য পরিকল্পনা না করে স্বর্গের কথা বলার লোকদের সমালোচনা করে, এ ধরনের বক্তব্য মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে জোর দেন।
আহমদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার ব্যবহার করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব যেখানে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। তিনি গরিব মানুষের মঙ্গলকে দেশের মঙ্গলের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে, কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তিশালী হলে জাতির মেরুদণ্ডও শক্তিশালী হবে বলে উল্লেখ করেন।
বিএনপি-কে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পক্ষে দল হিসেবে উপস্থাপন করে আহমদ বলেন, এই নীতিগুলোই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল ভিত্তি। তিনি তার প্রচারণার দ্বিতীয় দিনেও সক্রিয় ছিলেন; মানিকপুর‑সুরাজপুর ইউনিয়নে র্যালি পরিচালনা করে, বড়ইতলীসহ দুই ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রতীকী সংযোগের মাধ্যমে কৃষকদের সমর্থন জোরদার করেন।
এই কার্যক্রমে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন এবং আহমদকে সমর্থন জানিয়ে হাততালি দেন। র্যালির শেষে উপস্থিত জনগণকে আহমদ দেশের স্বার্থে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদের এই মন্তব্য ও কর্মসূচি নির্বাচনী মরসুমের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি আওয়ামী লীগের নীতিগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, নিজের পার্টির বিকল্প নীতি তুলে ধরে ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এমন র্যালি ও তীব্র সমালোচনা নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পার্টিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, আহমদ যে রূপক ব্যবহার করে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ উল্লেখ করেছেন, তা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আহমদের বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে, র্যালি অনুষ্ঠিত স্থানীয় জনগণ ও সমর্থকরা আহমদের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এই র্যালি এবং আহমদের মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।



