প্রিমিয়ার লিগে এই মৌসুমে কোণ, ফ্রি-কিক, পেনাল্টি ও লং থ্রো থেকে প্রায় ত্রিশ শতাংশ গোল হয়েছে। এ গড়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল, যারা লিগের ৪০টি গোলের মধ্যে ১৭টি সেট‑পিস থেকে অর্জন করেছে, যার মধ্যে পেনাল্টি অন্তর্ভুক্ত। পুরো মৌসুমে আর্সেনাল কোণ থেকে মোট ১৯টি গোল করেছে, যা তাদের ডেড‑বল কৌশলের কার্যকারিতা তুলে ধরে।
কোণ সরবরাহের ক্ষেত্রে দলটির প্রধান দুই খেলোয়াড় হলেন ডিক্ল্যান রাইস এবং বুকায়ো সাকা। রাইস ডান পা দিয়ে বাম দিক থেকে কোণ নেয় এবং তার সরবরাহে আটটি গোল হয়েছে। সাকা বাম পা দিয়ে ডান দিক থেকে কোণ নেয় এবং তার ডেলিভারিতে পাঁচটি গোল যুক্ত হয়েছে। উভয়েরই সরবরাহের ধরন দলকে ধারাবাহিকভাবে হুমকি তৈরি করতে সহায়তা করে।
আর্সেনালের কোণগুলোর ৮১ শতাংশই ইন‑সুইংিং, অর্থাৎ বলটি গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে আসে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইন‑সুইংিং কোণ আউট‑সুইংিং কোণের তুলনায় গোলের সম্ভাবনা বেশি। মিকেল আর্টেটা এই পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছেন, যদিও তিনি পূর্বে পেপ গুওয়ার্দিয়োর অধীনে কাজ করেছেন। গুওয়ার্দিও সাধারণত আউট‑সুইংিং বা ছোট কোণ পছন্দ করেন, যাতে বলের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে, তবে আর্টেটা আক্রমণাত্মক পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
আর্সেনালের সেট‑পিস কৌশল পুরনো পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কোণ সরবরাহের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই সরাসরি ছয়-ইয়ার্ড বক্সের দিকে লক্ষ্য করে, যা আক্রমণকারী খেলোয়াড়দের উচ্চতা ও শারীরিক শক্তিকে কাজে লাগায়। যদিও আর্সেনাল লিগে গড় উচ্চতার দিক থেকে ১৫তম স্থানে রয়েছে, তবে কোণ পরিস্থিতিতে তারা উচ্চ ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী ডিফেন্ডারদের ব্যবহার করে সুবিধা নেয়। ব্যাক ফোরের অন্তত তিনজন খেলোয়াড় প্রায়শই কোণ রক্ষায় অংশ নেয়, যার মধ্যে উইলিয়াম স্যালিবা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। স্যালিবা গোলরক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাহত করে, যেমন আগস্টে ওল্ড ট্রাফোর্ডে রিকার্ডো ক্যালাফিওরির জয়ী গোলের সময় তিনি সফলভাবে রক্ষকের দৃষ্টিপথে বাধা সৃষ্টি করেন।
আর্সেনালের কোণ কৌশলকে নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচদের মন্তব্যও প্রকাশ পেয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গুওয়ার্দিও কোণ সরবরাহে আউট‑সুইংিং বা সংক্ষিপ্ত পাসের পক্ষে থাকলেও, আর্টেটা তার সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় থেকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছেন। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রুবেন আমোরিম আর্সেনালের কোণ নীতি নিয়ে সমালোচনা করেন, উল্লেখ করে যে তাদের দলও কোণ থেকে একই ধরনের সুযোগ পেতে চাইবে।
সেট‑পিসের আধিপত্য বজায় রাখতে আর্সেনালকে কী করতে হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করেছেন। তবে বর্তমান তথ্য দেখায় যে কোণ সরবরাহের সঠিক পা, দিক ও ইন‑সুইংিং কৌণিকতা দলকে ধারাবাহিকভাবে গোলের সুযোগ দেয়। এছাড়া উচ্চতা ও শারীরিক শক্তি সম্পন্ন ডিফেন্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আর্সেনালের এই ধারাবাহিকতা তাদের পরবর্তী ম্যাচে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে। দলটি শীঘ্রই ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে, যেখানে গুওয়ার্দিও কোণ নীতি নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। এই মুখোমুখি ম্যাচে দু’দলের কোণ কৌশল কীভাবে পারস্পরিকভাবে প্রভাব ফেলবে, তা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় হবে।
সারসংক্ষেপে, আর্সেনালের কোণ থেকে গোলের সংখ্যা, ইন‑সুইংিং সরবরাহের উচ্চ শতাংশ এবং উচ্চ শারীরিক ক্ষমতাসম্পন্ন ডিফেন্ডারদের ব্যবহারই তাদের সেট‑পিসে আধিপত্যের মূল কারণ। আর্টেটার কৌশলগত পছন্দ ও রাইস‑সাকা যুগলের দক্ষতা এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রতিপক্ষদের জন্য চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করবে।



