লন্ডনের বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম এবং তার স্বামী ডেভিড বেকহ্যামের পুত্র ব্রুকলিন বেকহ্যাম ২০২২ সালে নিকোলা পেল্টজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অনুষ্ঠানটি একদিনের বদলে তিনদিনের সমাবেশ হিসেবে পরিকল্পিত ছিল, যেখানে স্বাগত পার্টি, মূল বিবাহ অনুষ্ঠান এবং পরের দিন ব্রাঞ্চ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ডি.জে ফ্যাট টনি, যিনি যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় পার্টি ডি.জে, পুরো তিনদিনের অনুষ্ঠানে সঙ্গীত সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এই ইন্টারভিউতে নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরেছেন।
ফ্যাট টনি উল্লেখ করেন যে তিনি স্বাগত পার্টি, বিবাহের মূল অনুষ্ঠান এবং রবিবারের ব্রাঞ্চ—যা তার মতে সবচেয়ে অস্বস্তিকর মুহূর্ত ছিল—এই তিনটি পর্যায়ে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ব্রাঞ্চের সময় অতিথিরা গত রাতের ঘটনার ওপর আলোচনা করে থাকায় পরিবেশে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি বলেন, এই আলোচনাগুলি পুরো সমাবেশের মেজাজকে প্রভাবিত করেছিল এবং অনেকেই তা লক্ষ্য করে ছিলেন।
ডি.জে তার মন্তব্যে “অপ্রাসঙ্গিক” শব্দটির ব্যবহার নিয়ে স্পষ্টতা আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক মিডিয়ায় তার অনুসারীরা তাকে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য করে, তবে তিনি নিজে তা অস্বীকার করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বিবাহের সময় কোনো অশ্লীল বা উত্তেজনাপূর্ণ পারফরম্যান্স ঘটেনি, যেমন কোনো স্লাট-ড্রপিং, কালো ক্যাট পিভিসুট বা স্পাইস গার্লের মত কোনো দৃশ্য।
বিবাহের মূল মুহূর্তে, আন্তর্জাতিক গায়ক মার্ক অ্যান্থনি মঞ্চে পারফরম্যান্সের সময় ব্রুকলিনকে মঞ্চে ডেকেছিলেন। সাধারণত এই সময়ে নবদম্পতি প্রথম নৃত্য করার প্রত্যাশা থাকে, তাই ব্রুকলিনও তার স্ত্রীর সঙ্গে নাচের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তবে অ্যান্থনি মঞ্চে ভিক্টোরিয়াকে ডাকার মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলে দেয়। ভিক্টোরিয়া মঞ্চে উঠে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্রুকলিনের মুখে হতাশার ছাপ দেখা যায়, কারণ তিনি তার প্রথম নৃত্যটি মিস করার আশঙ্কা করেন।
এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের ফলে নিকোলা পেল্টজের চোখে অশ্রু দেখা যায় এবং তিনি ঘরে থেকে বেরিয়ে যান। একই সঙ্গে, মার্ক অ্যান্থনি ব্রুকলিনকে তার মায়ের কোমরে হাত রাখার নির্দেশ দেন, যা উপস্থিত সকলের জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে। ডি.জে ফ্যাট টনি উল্লেখ করেন যে এই মুহূর্তে কক্ষের মধ্যে উত্তেজনা স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় এবং অতিথিরা এই অস্বস্তিকর দৃশ্যকে লক্ষ্য করে ছিলেন।
ফ্যাট টনি আরও বলেন, পুরো অনুষ্ঠানের সময় এই ধরনের সময়সূচি সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি এবং অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপই মূল সমস্যার কারণ ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো অশ্লীল বা অপ্রাসঙ্গিক উপাদান না থাকলেও, সময়ের ভুল ব্যবহারই পরিস্থিতিকে অস্বস্তিকর করে তুলেছিল। এই ব্যাখ্যা অনুসারে, ডি.জে নিজে ঘটনাগুলোর পেছনের কারণ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে মূল সমস্যাটি ছিল পরিকল্পনার ত্রুটি, ব্যক্তিগত আচরণ নয়।
অতিথিরা এই ঘটনার পর একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সামাজিক মিডিয়ায়ও এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে। তবে ডি.জে ফ্যাট টনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো ধরনের বিতর্ক বা গুজবের সৃষ্টি করতে চান না, বরং বাস্তব ঘটনার সঠিক বর্ণনা দিতে চান। তিনি শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেন, বিবাহের তিন দিনই বিভিন্ন রকমের মুহূর্তে ভরা ছিল, তবে এই বিশেষ মুহূর্তটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে রইল।
বিবাহের এই অস্বস্তিকর মুহূর্তটি মিডিয়ার দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিকল্পনা কীভাবে উন্নত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা বাড়বে। ডি.জে ফ্যাট টনি তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এই ধরনের বড় অনুষ্ঠানে সময়সূচি ও মঞ্চ পরিচালনার গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন।
এই ঘটনার পর, বেকহ্যাম পরিবার এবং নিকোলা পেল্টজের পারিবারিক বন্ধন কীভাবে পুনর্গঠন হবে তা এখনও জনসাধারণের দৃষ্টিতে রয়ে গেছে। তবে ডি.জে ফ্যাট টনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি কোনো পক্ষের সমর্থন বা বিরোধিতা করছেন না, বরং শুধুমাত্র ঘটনার বাস্তব তথ্য উপস্থাপন করছেন।
বিবাহের পরবর্তী দিনগুলোতে, ব্রুকলিন ও নিকোলা তাদের নতুন জীবনের সূচনা করতে গিয়ে মিডিয়ার দৃষ্টি থেকে কিছুটা দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। ডি.জে ফ্যাট টনি তার দায়িত্বের শেষ পর্যায়ে এই ঘটনাগুলোকে সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন অনুষ্ঠানগুলোতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই বিষয়টি নিয়ে আরও বিশদ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার ধারাবাহিকতা আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হবে।



