মিরপুরের গৃহস্থলীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চূড়ান্ত ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছে। টেস্ট দলের ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্তো, যিনি রাজশাহী দলের অধিনায়কও, তার নেতৃত্বে দলটি বিজয় অর্জন করেছে।
শান্তো ম্যাচের পর প্রেস কনফারেন্সে উল্লেখ করেছেন যে, যদিও দলটি ট্রফি নিয়ে উল্লাসে মগ্ন, তবু দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তিনি নিজে বিশ্বকাপের দলে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এই উদ্বেগকে ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি দেশীয় লিগগুলোতে অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে; কিছু দল প্রথম বিভাগীয় লিগ থেকে সরে গিয়েছে এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শান্তো এই পরিস্থিতিকে উল্লেখ করে বলছেন, “খেলোয়াড় হিসেবে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিক, কারণ আমরা অনিশ্চয়তার মুখে আছি।”
বিপিএল জয় অর্জনের পর তিনি বোর্ডকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ক্রিকেট বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দেশীয় ক্লাব ক্রিকেটে সমঝোতা করে, যাতে ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। যদি আমরা বিশ্বকাপে না যাই, তবে ঢাকা লিগকে আরও সুন্দরভাবে আয়োজন করা দরকার, যাতে খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকতে না হয়।”
প্রেস কনফারেন্সের শেষে শান্তো যখন পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি এক মুহূর্ত থেমে কিছুটা বিভ্রান্ত মুখে উত্তর দেন, “আমি জানি না কখন আবার মাঠে নামব।” এই অনিশ্চয়তা তার ক্যারিয়ার এবং দেশের ক্রিকেটের পরিকল্পনা উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যাচের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত ছিল তানজিদ হাসান তামিমের শতক, যা তাকে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের পর তৃতীয় শিরোপা ফাইনাল শতক অর্জনকারী করে তুলেছে। শান্তো তামিমের পারফরম্যান্সকে “ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে” বলে প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন, “এমন ইনিংস পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।”
তামিমের ইনিংসের আগে তিনি টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে বেশি সুযোগ পাননি, তবে শেষের দিকে তার আউটপুট দলকে জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শান্তো বলেন, “তামিমের পারফরম্যান্সে দেখা যায়, কখনো কখনো খেলোয়াড়ের সুযোগের সময় ঠিক না হলেও তিনি বড় মুহূর্তে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন।”
বিপিএল জয় সত্ত্বেও দেশীয় ক্রিকেটের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। শান্তোর মন্তব্যগুলো বোর্ডের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গঠনে সহায়তা করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাব লিগের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
শান্তোর নেতৃত্বে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিজয় এবং তামিমের শতক দুটোই বাংলাদেশ ক্রিকেটের উজ্জ্বল দিককে তুলে ধরেছে, তবে দেশীয় লিগের অস্থিতিশীলতা সমাধান না হলে খেলোয়াড়দের বিকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। ভবিষ্যতে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা দেশের ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা ও গুণগত মানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



