জোয়ানা নাটাসেগারার পরিচালনায় তৈরি ‘দ্য ডিসাইপল’ ডকুমেন্টারিটি সানডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিটি তরুণ টারিক “সিলভারিংজ” আজুগারহের (Tarik Azzougarh) জীবনের উত্থান-পতন এবং উউ-ট্যাং ক্ল্যানের একমাত্র কপি ‘Once Upon a Time in Shaolin’ অ্যালবামের গোপন ইতিহাসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
নাটাসেগারা পূর্বে ‘ভিরুংগা’ ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন; তার পরিবেশগত ও মানবিক থিমের প্রতি সংবেদনশীলতা এই নতুন কাজেও স্পষ্ট। ডকুমেন্টারির মোট দৈর্ঘ্য ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট, যা ফেস্টিভ্যালের প্রিমিয়ার শোতে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়।
সিলভারিংজের গল্পটি তার শৈশবের সঙ্গীতের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থেকে শুরু হয়। তিনি উউ-ট্যাং ক্ল্যানের ভক্তি নিয়ে নিজেকে স্টেজের মাঝখানে দেখতে স্বপ্ন দেখতেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ল্যানের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই যাত্রা ডকুমেন্টারির প্রথম অর্ধে রঙিন ও উদ্দীপনাময়ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
উউ-ট্যাং ক্ল্যানের ‘Once Upon a Time in Shaolin’ অ্যালবামটি ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়, যা মাত্র এক কপি হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। এই অনন্য রেকর্ডটি ২০১৭ সালে ফার্মাসিউটিক্যাল উদ্যোক্তা মার্টিন শ্ক্রেলি ২ মিলিয়ন ডলারে ক্রয় করেন, যা সঙ্গীত শিল্পে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করে। ডকুমেন্টারিতে এই লেনদেনের পেছনের কৌশল ও বিতর্কের বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম অংশে সিলভারিংজের উত্সাহ ও সংগ্রামকে রঙিন দৃশ্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে; তার আত্মবিশ্বাস, সঙ্গীতের প্রতি অটল ভালোবাসা এবং রেজা (RZA) এর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে সমর্থন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই অংশটি দর্শকদের জন্য একটি রোমাঞ্চকর রাগ-টু-রিচেস গল্পের মতো অনুভূত হয়।
ডকুমেন্টারির দ্বিতীয় অর্ধে বিষয়বস্তুটি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এখানে অ্যালবামের একক কপির মালিকানা, বিক্রয় ও বিতরণ প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা, এবং শ্ক্রেলির বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই অংশটি কিছুটা শীতল ও একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশের বর্ণনা প্রায়শই একধরনের প্রতারণা-কেন্দ্রিক ডকুমেন্টারির সঙ্গে তুলনা করা হয়; তবে এখানে প্রধান চরিত্র সিলভারিংজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং রেজার সম্পদ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিষয়বস্তুর ভারসাম্যকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে হয়।
সামগ্রিকভাবে, নাটাসেগারা বিভিন্ন ধারার মিশ্রণকে দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। তিনি সঙ্গীতের উচ্ছ্বাসপূর্ণ দিককে রোমান্টিক করে দেখিয়েছেন এবং একইসাথে শিল্পের গোপনীয়তা ও বাণিজ্যিক দিকের কঠোর বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।
সানডান্সে এই চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারটি শিল্প সমালোচক ও সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে; কিছু দর্শক প্রথম অর্ধের উচ্ছ্বাসের প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে দ্বিতীয় অর্ধের একপাক্ষিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বেঙ্গলি পাঠকদের জন্য এই ডকুমেন্টারিটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ এটি হিপ-হপের গ্লোবাল প্রভাব এবং একক অ্যালবাম সংস্কৃতির অনন্য দিক উন্মোচন করে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে বা ফেস্টিভ্যালের পরবর্তী স্ক্রিনিংয়ে ছবিটি দেখা সম্ভব হলে, সঙ্গীতের ইতিহাসে এই অনন্য অধ্যায়টি সরাসরি অনুভব করা যাবে।
উউ-ট্যাং ক্ল্যানের অন্যান্য রেকর্ড ও সিলভারিংজের ভবিষ্যৎ প্রকল্প সম্পর্কে জানার জন্য অনলাইন সঙ্গীত লাইব্রেরি ও সামাজিক মিডিয়া অনুসরণ করা উপকারী হবে। এছাড়া, ডকুমেন্টারিতে উল্লিখিত ‘Once Upon a Time in Shaolin’ অ্যালবামের গল্পটি সঙ্গীত শিল্পের বাণিজ্যিক দিকের জটিলতা বুঝতে সহায়ক।
সারসংক্ষেপে, ‘দ্য ডিসাইপল’ সঙ্গীতের প্রতি উত্সাহী তরুণের স্বপ্ন থেকে শুরু করে একক অ্যালবামের গোপন লেনদেন পর্যন্ত বিস্তৃত একটি যাত্রা উপস্থাপন করে। সানডান্সে এর প্রিমিয়ার দর্শকদের জন্য এটি একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে, যা সঙ্গীতপ্রেমী ও ডকুমেন্টারি অনুরাগীদের জন্য অবশ্যই দেখার মতো।



